1. te@ea.st : 100010010 :
  2. rajubdnews@gmail.com : admin :
  3. ahamedraju44@gmail.com : Helal Uddin : Helal Uddin
  4. nrbijoy03@gmail.com : Nadikur Rahman : Nadikur Rahman
  5. shiningpiu@gmail.com : Priyanka Islam : Priyanka Islam
  6. admin85@gmail.com : sadmin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ১১:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
মেহেরপুরে করোনায় দুজনের মৃত্যু কাপ্তাইয়ের রাইখালীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ ১ জন আটক ঝিনাইদহে করোনা সংক্রমণ রোধে জেলা প্রশাসনের বিধিনিষেধ জারি হে কাপ্তাই তুমি রয়েছ মনের গহীনে নিরবে নিভৃতে” স্মৃতির অ্যালবামে ভান্ডারিয়ায় আনারশ মার্কার নির্বাচনী কার্যালয়ে দুর্বৃত্তের আগুন মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত নাজমা কে বাঁচাতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন যশোরের শার্শায় ২৫টি গৃহহীন পরিবার পেলো নতুন ঠিকানা নিয়তির মুচকি হাসি—-মৌসুমী জামান কাপ্তাইয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর করোনা সচেতনতামূলক সড়ক প্রচারণা ছাত্রনেতা বিপ্লবের মৃত্যুতে কাউখালীতে বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ

সাপের বিষ ও জীবনের বিনিময়ে লেখা এক ডায়েরি

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১৯৫৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ঘটনা। শিকাগোর লিঙ্কন পার্ক চিড়িয়াখানার পরিচালক শহরের ফিল্ড মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে একটি সাপ পাঠিয়েছিলেন গবেষণার জন্য। ৭৬ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের সরীসৃপটি পরীক্ষা করার কথা কার্ল প্যাটারসন স্মিথ নামে একজন সাপ গবেষকের। ওই মিউজিয়ামে তিনি দীর্ঘ ৩৩ বছর কাজ করেছেন।

‘কোরাল স্নেক’ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ স্মিথ ১৯৫৫ সালে মিউজিয়ামের মুখ্য তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে অবসরে যান এবং ততদিনে তিনি সরীসৃপ বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগ্রহশালাগুলোর একটি গড়ে তোলেন।

সাপটির মাথা উজ্জ্বল রঙের নকশায় ঢাকা ছিল এবং এর মাথার আকৃতি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার গেছো সাপের মতো। যেগুলো বুমস্ল্যাং নামেও পরিচিত, এমনটাই লিখেছেন স্মিথ। এরপর তিনি যেটি করলেন তার জন্য জীবনের ব্যাপক মূল্য দিতে হয়। তিনি সাপটিকে আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করবার জন্য নিজের কাছাকাছি তুলে ধরেন। সাথে সাথে সাপটি তাকে আক্রমণ করে এবং তার বাঁ হাতের বুড়ো আঙ্গুলে কামড়ে দেয়, ফলে সেখানে দুটো ছোট রক্ত-চিহ্ন দেখা যায়।

কিন্তু কোনো ধরনের চিকিৎসা সহায়তা না নিয়ে তার বদলে স্মিথ নিজের আঙ্গুল থেকে রক্ত চুষে নিতে শুরু করেন। সেই বিষে তার শরীরে কী প্রভাব পড়ছে তা লিখে রাখেন একটি ডায়েরিতে। ২৪ ঘণ্টার কম সময় পর তিনি মারা যাবেন।

স্মিথ এর শেষ দিনটি

স্মিথ সম্ভবত তার সমসাময়িক অন্য আরও অনেক সাপ বিশেষজ্ঞের মতই মনে করতেন যে, এই ধরনের বুমস্ল্যাং মানব মৃত্যুর কারণ হওয়ার মত যথেষ্ট বিষ উৎপাদন করতে পারেনা। একারণে তিনি সাপে দংশনের পর বাড়িতে ফিরে যান এবং প্রতিটি মুহূর্ত তিনি রেকর্ড করেন।

মার্কিন রেডিও পিআরআই এর সায়েন্স ফ্রাইডে নামে একটি অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও প্রকাশ কর হয়। যার শিরোনাম ‘ডায়েরি অফ এ স্নেকবাইট ডেথ’ অর্থাৎ সাপের দংশনে মৃত্যুর ডায়েরি। যেখানে ডক্টর কার্ল পি স্মিথ এর জীবনের শেষ কয়েক ঘণ্টার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয় তার নিজেরই বর্ণনায়।

স্মিথ তার ডায়েরিতে লিখেছেন, ‘ বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা- প্রচন্ড গা গুলাচ্ছে কিন্তু বমি হয়নি। শহরতলীর একটি ট্রেনে চেপে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টা- প্রচন্ড ঠাণ্ডা এবং কাঁপুনি দিয়ে ১০১.৭ ডিগ্রি জ্বর। মুখ দিয়ে কফের সাথে রক্ত বেরোতে শুরু করেছে ৫:৩০ মিনিটের দিক থেকে, বেশিরভাগই মাড়ি থেকে। রাত সাড়ে ৮টায় দুই টুকরো মিল্ক টোস্ট খেলাম।

রাত ৯টা থেকে ১২:২০ মিনিট। ভালই ঘুমালাম। ১২:২০ মিনিটের দিকে প্রস্রাব করলাম, মূলত রক্তই গেল, তবে পরিমাণ অল্প। ৪:৩০ মিনিটের দিকে এক গ্লাস পানি পান করলাম, প্রচন্ড গা গুলানো এবং বমি বমি ভাব, হজম না হওয়া খাবার পাকস্থলী থেকে বেরিয়ে এলো। এরপর কিছুটা ভালো লাগছিল এবং ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ঘুমালাম।

স্মিথকে তার মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে চিকিৎসা সহায়তা করার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা নিলে বিষের প্রভাব ভালোভাবে বুঝতে পারবেন না বলে চিকিৎসার আবেদন ফিরিয়ে দেন।

পরিবর্তে, নিজের বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে সকালের নাশতার পর চমৎকার নোট লিখেছিলেন। ‘২৬শে সেপ্টেম্বর। ভোর ৬:৩০ মিনিট। তাপমাত্রা ৯৮.২. সিরিয়াল এবং টোস্টের সাথে ডিম পোচ, আপেল সস এবং কফি দিয়ে সকালের নাশতা খেলাম। প্রতি তিন ঘন্টায় প্রস্রাব নয় এক আউন্স করে রক্ত বের হচ্ছে। মুখ এবং নাক দিয়ে রক্ত ঝরেই যাচ্ছে, তবে খুব বেশি নয়।’

এটিই ছিল স্মিথ- এর লেখা সর্বশেষ কথা। দুপুর দেড়াটার দিকে মধ্যাহ্নভোজের পর তিনি বমি করেন এবং স্ত্রীকে ডাকেন। যখন তাকে সহায়তা দেয়া শুরু হল ততক্ষণে তিনি অচেতন হয়ে হয়ে গেছেন এবং তার শরীরের প্রচণ্ড ঘামে ভিজে গেছে।

এরপর তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে বিকেল তিনটায় ‘রেসপিরেশন প্যারালাইসিস’ দ্বারা মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। ফুসফুসে রক্তক্ষরণের কারণে তার শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হচ্ছিল। চোখ, ফুসফুস কিডনি হৃৎপিণ্ড এবং মস্তিস্কে অভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়।

স্মিথের মৃত্যুর পর দুই দশক ধরে চলা নানা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে বুমস্ল্যাং গোছের সাপ আফ্রিকান অঞ্চলের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সাপের অন্যতম যার অত্যন্ত টক্সিক বিষ রয়েছে। এর কামড়ে রক্ত জমাট হওয়ার ক্ষমতা থাকেনা ফলে রক্তপাতের শিকার হয়ে মানুষ মারা যায়। এই গেছো সাপ মধ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকা এলাকায় দেখা যায় এবং পূর্ণবয়স্ক একেকটি সাপ ১০০ থেকে ১৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। কোন কোনটি ১৮৩ সেন্টিমিটারও হয়।

স্মিথ এবং তার সহকর্মীরা কেউই এই সাপটির দংশনকে খুব একটা গুরুতর বলে আমলে নেননি। কারণ বুমস্ল্যাংটি ছোট ছিল এবং দংশিত ব্যক্তি ছিলেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। কিন্তু অন্যরা লিখেছেন স্মিথের জানবার কথা যে সেসময় বুমস্ল্যাং এর এন্টিভেনম ওষুধ সহজলভ্য ছিলনা।

স্মিথের জীবনের জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ শেষ মুহূর্তগুলোতে তার মনের ভেতর যাই চলুক না কেন, নিজের মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে পৌঁছেও পিছু হটেননি তিনি। সায়েন্স ফ্রাইডে অনুষ্ঠানের প্রযোজক টম ম্যাকনামারা সেটা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, ‘বরং তিনি অজানা জগতে ঝাঁপ দিয়েছেন’।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
2019 All rights reserved by |Dainik Donet Bangladesh| Design and Developed by- News 52 Bangla Team.
Theme Customized BY News52Bamg;a