1. te@ea.st : 100010010 :
  2. rajubdnews@gmail.com : admin :
  3. ahamedraju44@gmail.com : Helal Uddin : Helal Uddin
  4. nrbijoy03@gmail.com : Nadikur Rahman : Nadikur Rahman
  5. shiningpiu@gmail.com : Priyanka Islam : Priyanka Islam
  6. admin85@gmail.com : sadmin :
রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৪:২৪ অপরাহ্ন

রাজউকের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে পল্লবীর ইষ্টার্ণ হাউজিংয়ে অসংখ্য নকশা বহির্ভূত ভবন

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
এফ এম আনসারী :
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অসাধু কর্মকর্তাদেরকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে পল্লবীর ইষ্টার্ণ হাউজিংয়ে অসংখ্য নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করছে এক শ্রেনির দুর্নীতিগ্রস্থ ভবন মালিক।
এ দুই পক্ষের অসৎ কার্যকলাপের ফলে রাজউকের নিয়মিত উচ্ছেদ কার্যক্রম, ভ্রাম্যমাণ আদালতের তাৎক্ষনিক অভিযান কিংবা দুর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কোন কার্যক্রম সফল হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, পল্লবীর ইষ্টার্ণ হাউজিং ব্লক- এন, রোড- ২/৩, প্লট- ২ এ একটি সাড়ে দশ তলা ভবনের নির্মানকাজ চলছে। যে ভবনটি  রাজউকের অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মাণ করাসহ ইষ্টার্ন হাউজিংয়ের মূল মাষ্টারপ্ল্যানে দৃশ্যমান ৪০ ফিট রাস্তার প্রায় ১৫ ফিট রাস্তা দখল করে নির্মিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছিল অনেক আগে। যে অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মোঃ জিল্লুর রহমান ওই ভবনটিতে বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করেছে কিন্তু এ পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
সরেজমিন ভবনটিতে গিয়ে দেখা যায়, জমির পরিমান ১৫ শতাংশ। তফসিল- মৌজা- দ্বিগুন, খতিয়ান- সিএস- ৭৩৩, এসএ- ৬৫৬, আরএস- ২০৮, সিটি জরিপ- ১৩৫১, দাগ নং- সিএস ও এসএ- ৬৬২, আরএস- ১৩৭৩, ঢাকা সিটি জরিপ- ১০২৩৬, লেখা একটি সাইনবোর্ড ঝুলছে। ভবনটির সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মোঃ রজ্জব আলী বলেন, এ ভবনটির মোট মালিক ৩০ জন। ভবনের সামনে রাজউকের অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত কোন সাইনবোর্ড নেই। শ্রমিক কিংবা জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য কোন সেফটিনেট নেই। যার ফলে ওই ভবনটির তথ্য কেউ জানতে পারছে না,  অপরদিকে সেফটিনেট না থাকার কারনে শ্রমিক কিংবা জনসাধারন যে কোন সময় দূর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এছাড়া ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, অপসারণ ও সংরক্ষন) বিধিমালা- ২০০৮ এ ভবনের আশেপাশে যে পরিমান জায়গা ছাড়ার কথা বলা হয়েছে তা ছাড়া হয়নি।
উল্লেখ্য. ইষ্টার্ণ হাউজিং আবাসিক এলাকা সংলগ্ন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের রাডার স্থাপিত হওয়ায় এ এলাকায় রাজউক চারতলা ভবনের বেশি উচ্চতায় কোন ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয় না।
 এ ভবনটি নির্মানের দায়িত্বে আছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম নিজাম। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ভবনের নির্মাণকাজ রাজউকের নিয়মনীতি মেনে করা হচ্ছে।
এদকে ওই ভবনটি সম্পর্কে রাজউকের মহাখালী জোনাল অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভবনটি নির্মাণে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদনে রয়েছে চরম অসংগতি। এ ব্যপারে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র শাখার উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ ভবনটি সম্পর্কে তথ্য দিতে তালবাহানা করছে। তাই তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯ অনুযায়ী তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এ ব্যপারে ওই এলাকার দায়িত্বরত ইমারত পরিদর্শক মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, ওই এলাকার অনেকগুলো ভবনের অনুমোদিত নকশা চেয়ে নোটিশ রেডি করা হয়েছে। স্যারের সই হলেই সেগুলো প্রেরন করা হবে।
ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, পল্লবীর ইষ্টার্ন হাউজিংয়ে চারতলার অনুমোদন নিয়ে ছয়তলা, সাড়ে ছয়তলা এমনকি সাততলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে অহরহ। এটা সাধারন ব্যপার। রাজউকের ইমারত পরিদর্শক এসব ভবন থেকে মোটা অংকের টাকা মাসোয়ারা পায়। তাই দেখেও না দখার ভান করে। ব্যবস্থা নিতে বলা হলে নানা তালবাহানা করে কালক্ষেপণ করে।
পল্লবীর ইষ্টার্ন হাউজিংয়ে এইচ  ব্লকের ৬ নম্বর রোডের ৬ নম্বর প্লটে একটি ভবন চারতলার অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে সাড়ে ছয়তলা নির্মান করেছে। এ ভবনটিতে ইমারত পরিদর্শক একাধিকবার পরিদর্শন করেছে। শুরুতে ভবন মালিকের সাথে ইমারত পরিদর্শকের গন্ডোগোল লাগলেও পরবর্তীতে মোটা টাকার রফাদফায় হয়েছে। বর্তমানে ভবনটি পুরোপুরি কমপ্লিট। কোন নোটিশ করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কন্টাক্টর বলেন, এই এলাকায় অনেক ভবন আছে যেগুলো রাজউক থেকে অনুমোদন নিয়েছে  চারতলার কিন্তু নির্মাণ করেছে ছয়তলা সাততলা। সবাই রাজউককে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে ম্যানেজ করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জে ব্লকের এনএস- ২ নম্বর রোডের ১১ নং প্লটের মালিক আলী নূর, ছামছুল আলম, শাহানাজ বেগম ও হেলাল উদ্দিন, এইচ ব্লকের ৬ নম্বর রোডের ২৫ নং প্লটের মালিক জিএ ফাউন্ডেশন, এফ ব্লকের এস- ১ নম্বর রোডের ২২ নং প্লটের মালিক মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও এফ ব্লক ২ নম্বর রোডের ৪ নম্বর প্লটের মালিক মোঃ হায়দার আলী একই নিয়মে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করছে। যে ভবনগুলোর সামনে রাজউকের তথ্য সম্বলিত কোন সাইনবোর্ড নেই। কয়েকটি ভবনের সামনে থাকলেও কত তলা হবে তার কোন উল্লেখ নেই।
ভবন মালিকদের দাবী এত টাকা দিয়ে জমি কিনে চারতলা পর্যন্ত বাড়ি নির্মান করলে কিভাবে থাকব। ডেভেলপার কোম্পানীর মালিকরা তাদের ব্যবসায় লস দেখছে। এজন্য তারা রাজউকের কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে এই অসৎ পথ অবলম্বন করছে।
এ ব্যপারে ইমারত পরিদর্শক মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, এ এলাকায় বিশ পঁচিশটি রাজউকের অনুমোদিত নকশা বহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে নোটিশ রেডি করা হয়েছে। স্যারের সই হলেই বিতরন করা হবে। এই জোনের অথরাইজড অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার নুর আলম। তার বিরুদ্ধে ছিল দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে আছেন ইঞ্জিনিয়ার মাকিদ এহসান।  তিনি এর আগে এই জোনের অথরাইজড অফিসার ছিলেন। রাজউক সুত্র জানায়, এর আগে এই জোনে যেসব অথরাইজড অফিসার ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ। এই জোনের সহকারী অথরাইজড অফিসার মোঃ ইলিয়াস মিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ একই জোনে একই টেবিলে কর্মরত আছেন। এই জোনের সবার ট্রান্সফার হয় কিন্তু তার হয় না। এই জোনে তিনি আগে ছিলেন প্রধান ইমারত পরিদর্শক। দীর্ঘদিন যাবৎ একই জোনে কর্মরত থাকার ফলে তার সাথে বিভিন্ন ভবন ও ডেভেলপার কোম্পানীর মালিকদের রয়েছে গভীর সখ্যতা। ইষ্টার্ন হাউজিংয়ের কয়েকজন ভবন মালিক বলেছে, তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে এভাবে ভবন নির্মাণের আশ্বাস পেয়েছি তাই করেছি। এ ব্যপারে ইলিয়াস মিয়া বলেন, আমি কারো কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা নেইনি এবং কাউকে কোন অবৈধ কাজে আশ্বাসও দেইনি।  চলবে-

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
2019 All rights reserved by |Dainik Donet Bangladesh| Design and Developed by- News 52 Bangla Team.
Theme Customized BY News52Bamg;a