1. te@ea.st : 100010010 :
  2. rajubdnews@gmail.com : admin :
  3. ahamedraju44@gmail.com : Helal Uddin : Helal Uddin
  4. nrbijoy03@gmail.com : Nadikur Rahman : Nadikur Rahman
  5. shiningpiu@gmail.com : Priyanka Islam : Priyanka Islam
  6. admin85@gmail.com : sadmin :
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ১০:০৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :
বাবুগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের কমিটি ঘোষণা উদীচী যশোরের আয়োজনে অসহায় মানুষদের মাঝে “ফ্রি বাজার” কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য পঃপঃ কর্মকর্তা করোনা পজেটিভ চিৎমরম করোনা আক্রান্ত হয়ে মহিলার মৃত্যু কাপ্তাইয়ের এক স্বাস্থ্যকর্মী ইপিআই সেবা দিতে ছুটছে দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে ঝিনাদহের হরিণাকুণ্ডু কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন যশোরের কেশবপুরে বাল্যবিবাহ দেয়ার অপরাধে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত করোনা বিস্তার রোধে মোরেলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পরিবার উন্নয়ন সংস্থার ত্রাণ বিতরণ কাপ্তাইয়ে করোনা সর্বোচ্চ হওয়ায়, ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার

পল্লবীর ইষ্টার্ণ হাউজিংয়ে অসংখ্য নকশা বহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না রাজউক

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১
এফ এম আনসারী :
রাজধানীর রুপনগর থানাধীন ইষ্টার্ণ হাউজিং কিংবা বর্ধিত পল্লবী আবাসিক এলাকায় একে একে গড়ে উঠছে অসংখ্য নকশা বহির্ভূত ভবন। যে ভবনগুলোর বিরুদ্ধে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। রাজউক ইতিপূর্বে ওই এলাকায় যেসব নির্মানাধীন ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নোটিশ করে নির্মানকাজ বন্ধ রাখার কন্য নির্দেশ দিয়েছিল অথবা ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়েছিল সেসব ভবন আগের মতই নির্মানকাজ চলমান রেখেছে এবং পুনরায় নির্মান করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, পল্লবীব আলুব্দী এলাকা সংলগ্ন ইষ্টার্ণ হাউজিংয়ের এন ব্লক ২/৩ নম্বর রোডের ২ নম্বর প্লটে একটি সাড়ে দশ তলা ভবনের নির্মানকাজ চলছে। যে ভবনের বিরুদ্ধে অনেক আগেই ইষ্টার্ন হাউজিংয়ের মূল মাষ্টারপ্ল্যানে দৃশ্যমান ৪০ ফিট রাস্তার প্রায় ১৫ ফিট রাস্তা দখল করে নির্মান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।   ভবনটিতে ইতোমধ্যে রাজউকের দু’জন ইমারত পরিদর্শক পরিদর্শন করেছে। তারা বলেছে, আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ভবনটি রাজউকের নকশা বহির্ভূতভাবে  নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু এযাবৎ রাজউকের কোন ইমারত পরিদর্শকরা ওই ভবনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  ভবনটি নির্মানের মাঝামাঝি সময়ে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মোঃ জিল্লুর রহমান বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করেছে। এ ব্যপারে তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ ভবনটিতে আমি বেশ কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। ভবন নির্মানের দায়িত্বে থাকা মোঃ সাইফুল ইসলাম নিজামের কাছে মৌখিকভাবে ভবনের অনুমোদিত নকশা চেয়েছি। তিনি তা এখন পর্যন্ত সরবরাহ করেনি। আমার আগে ওই এলাকায় ইমারত পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন আরেকজন। তিনিও তার কাছে অনুমোদিত নকশা চেয়েছে। তিনি তা দেননি। তাই ওই ভবনসহ অত্র এলাকায় যতগুলো নকশা বহির্ভূত ভবন আছে সেসব ভবনের বিরুদ্ধে নোটিশ রেডি করেছি। স্যারের সই হলেই সেগুলো প্রেরন করা হবে।
সরেজমিনে ভবনটিতে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের সামনে জমির পরিমান, তফসিল, মৌজা, সিএস, আরএস ও সিটি জরিপ উল্লেখ করে একটি সাইনবোর্ড আছে। সেই সাইন বোর্ডে লেখা আছে, জমির পরিমান ১৫ শতাংশ, মৌজা- দ্বিগুন, খতিয়ান- সিএস- ৭৩৩, এসএ- ৬৫৬, আরএস- ২০৮, সিটি জরিপ- ১৩৫১, দাগ নং- সিএস ও এসএ- ৬৬২, আরএস- ১৩৭৩, ঢাকা সিটি জরিপ- ১০২৩৬।
রাজউকের নিয়মানুযায়ী ভবনের সামনে রাজউক অনুমোদিত তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড ও  শ্রমিক কিংবা জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সেফটিনেট ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ভবন মালিক তা করেনি। যার ফলে ওই ভবনটির নির্মাণের বিষয়ে সঠিক তথ্য কেউ জানতে পারছে না এবং নির্মানের সময় শ্রমিক কিংবা জনসাধারনের দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।
ভবনটিতে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মোঃ রজ্জব আলী বলেন, এ ভবনটির মোট মালিক ৩০ জন। এ ভবনটি নির্মানের দায়িত্বে আছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম নিজাম। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ভবনের নির্মাণকাজ রাজউকের নিয়মনীতি মেনেই করা হচ্ছে।
পরবর্তীতে  ওই ভবনটি সম্পর্কে রাজউকের মহাখালী জোনাল অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভবনটির নকশা অনুমোদনে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদানে রয়েছে চরম অসংগতি। এ ব্যপারে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র শাখার উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ এ ভবনটি সম্পর্কে তথ্য দিতে নারাজ। তাই তথ্য অধিকার আইন- ২০০৯ অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে  তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য পেলে পরবর্তী রিপোর্টে প্রকাশ করা হবে।
সূত্র জানায়, ওই এলাকা সংলগ্ন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের রাডার স্থাপিত হওয়ায় ভবন নির্মানে উচ্চতার সীমারেখা আছে। তাই রাজউক ওই এলাকায় চারতলার উপরে কোন ভবনের অনুমোদন দিতে পারে না। এর আগে ২০১১ সালে কিছু ভবনের অনুমোদন ছয়তলা পর্যন্ত দিয়েছিল কিন্তু বর্তমানে দিচ্ছে না।
ওই এলাকার এক কন্ট্রাক্টর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, ইষ্টার্ন হাউজিংয়ে চারতলার অনুমোদন নিয়ে ছয়তলা, সাড়ে ছয়তলা এমনকি সাততলা পর্যন্ত ভবন অনেক আছে। রাজউকের ইমারত পরিদর্শকরা এসব ভবনের মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা মাসোয়ারা পায়। তাই তারা এসব ভবনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় না। যদি কেউ একটি ভবনের বিরুদ্ধে  অভিযোগ তুলে তাদের কাছে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে তখন তারা নেই নিচ্ছি করে কালক্ষেপন করে। এর মধ্যে ভবনের  নির্মানকাজ শেষ হয়ে যায়। এরপর তারা ভবন মালিককে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর ওই ভবনের বিরুদ্ধে রাজউক কিংবা অন্য কোন সংস্থা আর কোন ব্যবস্থা নিতে না পারে। তখন তারা বলে, এই ভবনে আদালতের মামলা চলমান। তাই এই ভবনের বিরুদ্ধে  কোন ব্যবস্থা নেয়া যাবে না। নিলে আদালত অবমাননা হবে। রাজউক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এরকম অনেক অভিযোগ আছে।
তিনি আরো বলেন, ইষ্টার্ন হাউজিংয়ের এইচ  ব্লকের ৬ নম্বর রোডের ৬ নম্বর প্লটে নির্মানাধীন একটি ভবন রাজউক থেকে চারতলার অনুমোদন নিয়ে সাড়ে ছয়তলা পর্যন্ত ইতোমধ্যে সম্পুর্ন করেছে। ভবনটির নির্মান কাজের মাঝামাঝি সময়ে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মোঃ জিল্লুর রহমান একাধিকবার পরিদর্শন করেছে। শুরুর দিকে ভবনটির মালিকপক্ষ তার সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে। পরবর্তীতে বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে। এরপর থেকে ইমারত পরিদর্শক আর ওই ভবনটির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমানে ভবনটির কাজ প্রায় শেষ।
তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় এরকম আরো অনেক ভবন আছে, যেগুলো রাজউক থেকে অনুমোদন নিয়েছে  চারতলার কিন্তু নির্মাণ করেছে ছয়তলা, সাততলা। সবাই রাজউককে মোটা অংকের টাকা দিয়ে তাদের ভবন  নির্মান করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জে ব্লকের এনএস- ২ নম্বর রোডের ১১ নং প্লটের ভবনের মালিক আলী নূর, ছামছুল আলম, শাহানাজ বেগম ও হেলাল উদ্দিন, এইচ ব্লকের ৬ নম্বর রোডের ২৫ নং প্লটের মালিক জিএ ফাউন্ডেশন, এফ ব্লকের এস- ১ নম্বর রোডের ২২ নং প্লটের মালিক মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও এফ ব্লক ২ নম্বর রোডের ৪ নম্বর প্লটের মালিক মোঃ হায়দার আলী ও  মেইন রোডের ১০ ও ১৫ নম্বর ভবনের মালিক পাটোয়ারী প্রোপার্টিজ একইভাবে তাদের ভবন নির্মাণ করছেন।
এসব ভবন মালিকদের দাবী, এত টাকা দিয়ে জমি কিনে চারতলা পর্যন্ত বাড়ি নির্মান করলে কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করব। ডেভেলপার কোম্পানীর মালিকরা বলেন, এভাবে চারতলা ভবন নির্মাণ করলে পথে বসতে হবে।
এই জোনের অথরাইজড অফিসার ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার নুর আলম। সদ্য তিনি অন্য জোনে চলে যাওয়ায় বর্তমানে ভারপ্রাপ্তের দায়িত্বে আছেন ইঞ্জিনিয়ার মাকিদ এহসান। তিনি এর আগেও একবার এই জোনের অথরাইজড অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, এসব ভবনের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
2019 All rights reserved by |Dainik Donet Bangladesh| Design and Developed by- News 52 Bangla Team.
Theme Customized BY News52Bamg;a