1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : News 52 Bangla : Nurul Huda News 52 Bangla
শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির মুখ উজ্জল করেছেন ড. তাফহিমা হায়দার

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১
প্রবাস ডেস্কঃ
যুক্তরাজ্যে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী বিজ্ঞানী ড. তাফহিমা হায়দার। বিলেতে গবেষণা ও একাডেমিক সাফল্য দিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটির মুখ উজ্জ্বল করেছেন ড. তাফহিমা হায়দার।

ড. তাফহিমা হায়দার (চাঁদনী) সম্প্রতি ডক্টরেট অর্জন করে লন্ডনের কুইনমেরী ইউনিভার্সিটিতে একজন সায়েন্টিস্ট (বিজ্ঞানী) হিসেবে যোগদান করেছেন।

তিনি লন্ডন কুইনমেরী ইউনিভার্সিটি থেকে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স-এর উপর পড়াশোনা করে আন্ডার গ্রাজুয়েট ফার্ষ্ট ক্লাস (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।
এরপর তিনি লন্ডনের ইউসিএল থেকে ইনফেকশন ইমিউনিটি’র উপর মাষ্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
তার মাষ্টার্স শেষ করার পর যখন ইউসিএল-এ কাজে যোগদান করেন তখন সায়েন্টিফিক রিসার্চে ভাল ফলাফল দেখে এবং তার কাজ ও ধৈর্য্য দেখে ইউসিএল এর বিজ্ঞানীরা তাকে পিএইচডি করার জন্য উৎসাহিত করেন।

তাফহিমা মলিকোলার ভায়োরোলজির উপর পিএইচডি শেষ করেন এবং এ বছর বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘পিএনএএস’ এ তাঁর গবেষণা নিবন্ধ  প্রকাশিত হয়।

তিনি তাঁর এই গবেষণায় এইচআইভি-১ এর ইনফেকশন মানুষের শরীরে কিভাবে বন্ধ করা যায় সেই বিষয়ের উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এ বছর সকল পিএইচডি ছাত্রছাত্রীদের জন্য কভিড-১৯ ছিলো একটি কঠিন সময়। কারণ কখন লক ডাউন শেষ হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এই কঠিন সময়েও তাফহিমা থেমে থাকেননি, তিনি যথাসময়েই তার পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

পিএইচডি শেষ করার পর রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে দুটি কাজের অফার পান তাফহিমা।
একটি ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি এবং অন্যটি কুইনমেরী ইউনিভার্সিটিতে। তিনি তিনি কুইনমেরীর অফারটিকে স্বাগত জানান,  কারণ তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা এই যে, তিনি এমন একটি প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করবেন যাতে ভবিষ্যতে মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে বিশ্বের দরিদ্র মানুষগুলোক।

কুইনমেরী ইউনিভার্সিটিতে তার রিসার্চের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, সাউথ আফ্রিকার ছেলেমেয়েদের অপুষ্টির কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কেন তারা বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশনে ভোগে – তা নিয়ে গবেষণা করা। তার এই রিসার্চের মাধ্যমে এসব ছেলেমেয়েদের সুস্থ জীবন যাপনে ফিরিয়ে আনতে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরণের কৌশল অবলম্বন করে তাদের ঔষধ আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন।

এছাড়াও তাফহিমা মেটারনাল এইড এসোসিয়েশন (মা) চ্যারিটি অর্গেনাইজেশনে ভলান্টিয়ার হিসেবে একাডেমিক অফিসার এবং রিসার্চে কাজ করছেন যাতে প্রতি বছর বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে হাজার হাজার মায়েদের জীবন উন্নত করে বাঁচতে সাহায্য করে। ভবিষ্যতে স্বাধীন বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করা তাঁর অন্যতম লক্ষ্য এবং নিজস্ব একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিসার্চ টীম গঠন করবেন। যার ফলে তিনি বিশ্বের মা এবং শিশুদের জীবন বাঁচাতে রিচার্সের মাধ্যমে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে পারবেন।

ড. তাফহিমা হায়দার আশা প্রকাশ করে বলেন, তার এই উদ্যোগ দেখে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা উৎসাহিত হবে ।
বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘু ব্যাকগ্রাউন্ডের মেয়েরা এবং মহিলারা অনুপ্রাণিত হবে এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করবে।

উল্লেখ্য, ড. তাফহিমা হায়দারের গর্বিত পিতা হলেন লন্ডন বাংলা  প্রেস ক্লাবের সদস্য,  সাংবাদিক দেওয়ান রফিকুল হায়দার (ফয়সল) এবং মা জোছনা আরা হায়দার। বাংলাদেশে তাদের বাড়ি সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর গ্রামে।

অনেকেই মনে করেন ড. তাফহিমা হায়দারের এই অর্জন বিলেতে নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ভবিষ্যত বিনির্মানে  স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
2019 All rights reserved by |Dainik Donet Bangladesh| Design and Developed by- News 52 Bangla Team.
Theme Customized BY News52Bamg;a