মেক্সিকো সিটির ক্যাথলিক ক্যাথেড্রালে (Catholic Cathedral) অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর সঙ্গীতানুষ্ঠান। জার্মানির প্রখ্যাত অর্গানবাদক ও পরিচালক লিও ক্রেমারের (Leo Krämer) পরিবেশনায় মুগ্ধ হন সকলে। অর্গানকে তিনি ঈশ্বরের এক অপূর্ব দান হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, অর্গানের ধ্বনিই এর প্রমাণ।
ক্রেমার ষাট বছর ধরে অর্গান বাদ্যযন্ত্রের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। বাদ্যযন্ত্রটিকে তিনি নিজের শরীরের একটি অংশের মতোই মনে করেন। গানটি কেমন হবে, তা তিনি বাদ্যযন্ত্রে হাত না দিয়েই অনুভব করতে পারেন। তাঁর মতে, “অর্গান জীবন্ত এক সত্তা।”
৮১ বছর বয়সী এই জার্মান পরিচালক সম্প্রতি মেক্সিকো সিটির ক্যাথেড্রালে পবিত্র সঙ্গীতানুষ্ঠানের সূচনা করেন। আগামী দিনগুলোতেও এখানে বিভিন্ন কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিভিন্ন শিল্পী ও কোরাস দল সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। ক্রেমার সম্ভবত ডিসেম্বরে সমাপনী কনসার্টে অংশ নিতে আবার ফিরবেন।
অনুষ্ঠানটির আয়োজক কমিটির সদস্য আর্তুরো এরনান্দেজ জানান, “আমাদের লক্ষ্য হল এই ক্যাথেড্রালটিকে ঈশ্বরের স্তুতি এবং সুন্দর সঙ্গীতের প্রসারের স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। এখানকার দেয়ালগুলোর মাঝে শিল্পকলার চমৎকার নিদর্শন—যেমন চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য—রয়েছে, তবে সঙ্গীতের মাধুর্য অনেক সময়ই যেন দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়।”
১৯৮০-এর দশকে ক্রেমার এই ক্যাথেড্রালে একটি কনসার্ট করেছিলেন। এবার এখানকার দুটি অর্গান বাদ্যযন্ত্র একসাথে বাজানোর সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। ক্রেমারের মতে, “প্রত্যেকটি অর্গান একটি জাতির সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। এটি একটি বাদ্যযন্ত্র হলেও, এর উৎপত্তিস্থলের উপর নির্ভর করে এর ধ্বনিতে ভিন্নতা আসে।”
ঐতিহাসিক কেভিন ভালদেজ জানিয়েছেন, ক্যাথেড্রালটির বিশেষত্ব হলো এখানে দুটি অর্গান রয়েছে—একটি মেক্সিকান এবং অন্যটি স্প্যানিশ। দুইটি বাদ্যযন্ত্রই ১৯৬৭ সালের অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেয়েছিল।
অনুষ্ঠানে আসা শ্রোতাদের মধ্যে ছিলেন শিল্পী সাইরা দে লা তরে। তিনি বলেন, “এমন একজন আবেগপূর্ণ সঙ্গীতশিল্পীকে এত কাছ থেকে দেখার এবং অর্গানের মতো একটি বিশাল বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি অনুভব করার সুযোগ পাওয়াটা ছিল অসাধারণ। সঙ্গীতের মাধুর্য আমার আত্মাকে ছুঁয়ে গেছে।” স্থপতি অস্কার রামিরেজ অর্গানের ধ্বনি কিভাবে পুরো ক্যাথেড্রালে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন।
ক্রেমার বাখ, ইতালীয় সুরকার ইগনাচিও দে জেরুজালেম এবং ক্যাথেড্রালের সংগ্রহ থেকে “মিসা ফেরিয়াল আ ৪” (Misa Ferial a 4) সহ বিভিন্ন ধরনের সুর পরিবেশন করেন। তিনি সঙ্গীতের নিজস্ব ধারাও তৈরি করেন, যা শ্রোতাদের মন জয় করে।
কনসার্ট শেষে ভেরোনিকা বারিয়োস কিছুক্ষণ চুপ করে বসে ছিলেন। তিনি বলেন, “এখানে কেবল প্রার্থনা করতে আসা হয় না, এই সঙ্গীত আমাদের ঈশ্বরের আরও কাছে নিয়ে যায়।”
তথ্য সূত্র: এসোসিয়েটেড প্রেস