যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া টাউন হলগুলোতে জনগণের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ছেন আইনপ্রণেতারা। সম্প্রতি এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে আসা সাধারণ মানুষজন বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিষয়গুলো অনেক সময় তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সভা মাঝপথে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা।
গত বুধবার, রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান হ্যারিয়েট হেজম্যানকে ওয়াইওমিং রাজ্যের লারামিতে একটি টাউন হলে জনগণের ক্ষোভের শিকার হতে হয়। সভায় উপস্থিত জনতা “৬ই জানুয়ারী” এবং “ধনীদের উপর কর বসাও” -এর মতো শ্লোগান দেয়।
হেজম্যান যখন কথা বলতে শুরু করেন, তখন তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি চিৎকার করে বলেন, তিনি যেন ‘কিছুই করছেন না’। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে হেজম্যান ক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে বলেন, “যদি আপনারা আমাদের প্রক্রিয়া এবং দেশের প্রতি এতটুকু সম্মান না দেখান, তাহলে আমি আপনাদের এখান থেকে চলে যেতে বলব।”
অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান শন কাস্টেনকে ইলিনয়ের ডাউনার্স গ্রোভে অনুষ্ঠিত একটি টাউন হলে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়।
বিক্ষোভকারীরা তাকে বিভিন্ন সময়ে কথা বলতে বাধা দেয় এবং এক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি মঞ্চে উঠে আসেন। তখন কাস্টেন উপস্থিত জনতাকে জানান যে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে পুলিশ ডাকবেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ সভাটি বন্ধ করে দেয় এবং সবাইকে বাড়ি ফিরে যেতে বলে।
বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, জনগন বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতা এবং এলন মাস্কের সরকারি কার্যকারিতা বিভাগ (Department of Government Efficiency) নিয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এছাড়াও, কিছু ডেমোক্রেট সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা অগোছালো এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সোচ্চার নন।
হেজম্যান যখন সরকারের কর্মদক্ষতা বিষয়ক একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে যান, তখন তাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার হতে হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এমন ঘটনাগুলো দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদ্যমান বিভাজনকেই তুলে ধরে।
জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আস্থা কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন নীতি নিয়ে অসন্তুষ্টি বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
টাউন হলগুলোতে জনগণের এই ক্ষোভ প্রকাশ গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য হন।
তথ্য সূত্র: সিএনএন