মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। তারা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিমালার বিরুদ্ধে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যথেষ্ট জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন টাউন হল মিটিংয়ে (স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনা সভা) জনগণের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে, যা দলের অভ্যন্তরে বিভেদ আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
এসব মিটিংয়ে ভোটাররা ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের প্রতি ‘আরও কঠোর’ এবং ‘প্রতিরোধী’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা রিপাবলিকানদের মোকাবিলায় কৌশলগত দুর্বলতা ও আপোসকামী মনোভাবের অভিযোগ তুলেছেন।
মেরিল্যান্ডের কংগ্রেসম্যান (সাংসদ) গ্লেন ইভিকে একজন ভোটার বলেন, “আমরা চাই আপনি মিচ ম্যাককনেলের (সিনেটের রিপাবলিকান নেতা) মতো কৌশলগত দক্ষতা দেখান।”
ইলিনয়ের কংগ্রেসম্যান (সাংসদ) শন কাস্টেনের টাউন হল মিটিংয়ে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, “তাদের অন্তত একবার সত্যিকারের বিরোধী দলের মতো আচরণ করা উচিত।”
সরকার পরিচালনায় অর্থ বরাদ্দ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে রিপাবলিকানদের সমঝোতার পর এই সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে নেতৃত্বের অভাব এবং আদর্শগত বিভাজন তাদের দুর্বল করে তুলেছে। এর ফলে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে পারছে না।
আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
নেব্রাস্কার কংগ্রেসম্যান (সাংসদ) মাইক ফ্লাডকে এক সভায় প্রশ্ন করা হয়, কীভাবে তিনি চিকিৎসা গবেষণার অর্থ হ্রাসের বিষয়টি মেনে নিচ্ছেন, যেখানে তার স্ত্রী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত।
একজন রিপাবলিকান ভোটার কলোরাডোর ক্যারল মোজম্যান বলেন, “আমি চাই কংগ্রেস ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখুক। আমরা দেখতে চাই, তিনি এবং অন্যান্য রিপাবলিকানরা গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, তারা নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে মি. ট্রাম্পকে সবকিছু করতে দেবেন না।”
অন্যদিকে, ওয়াইমিংয়ের প্রতিনিধি হ্যারিয়েট হেজম্যান ফেডারেল সরকারের অর্থ হ্রাস এবং অনুদান স্থগিতের বিষয়ে জনগণের উদ্বেগের মুখোমুখি হন।
কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকা টোমি সু উইল বলেন, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন, তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ফেডারেল সাহায্য পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, কংগ্রেসকে নিশ্চিত করতে হবে, কীভাবে এই তহবিল রাজ্যগুলোতে বিতরণ করা হবে।”
আরেকটি টাউন হল মিটিংয়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও রিপাবলিকান ভোটার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি হেজম্যানকে জিজ্ঞাসা করেন, “আপনি একজন আইনজীবী, এই দুর্নীতি কোথায়?”
হেজম্যান ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (USAID) অর্থ ব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করেন।
ডেমোক্র্যাটদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিতে চাইছে রিপাবলিকানরা। তারা তাদের প্রতিনিধিদের টাউন হল মিটিং এড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জনগণের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন এবং তাদের সমালোচনার জবাব দিতে বাধ্য হয়েছেন।
ডেমোক্র্যাটরা মনে করছেন, রিপাবলিকানদের জনবিচ্ছিন্নতা তাদের জন্য সুবিধা নিয়ে আসবে।
তবে জনগণের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায়, এটি তাদের জন্য রাজনৈতিকভাবে খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি।
সম্প্রতি করা এক জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতি আমেরিকানদের সমর্থন ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা রেকর্ড সর্বনিম্ন।
বার্নি স্যান্ডার্স ‘ফাইটিং অলিগার্কি’ নামে দেশব্যাপী সমাবেশ করছেন, যেখানে তিনি রাজনৈতিক পদক্ষেপের জন্য মানুষকে উৎসাহিত করছেন।
আলেক্সান্ড্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজও (ডেমোক্রেট) এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন, তবে দলের মধ্যে বিভাজন থাকায় তার এই পদক্ষেপ নিয়েও অনেকে সমালোচনা করেছেন।
টাউন হল মিটিংগুলোতে ডেমোক্র্যাট ভোটাররা তাদের প্রতিনিধিদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যর্থ হচ্ছেন।
অ্যারিজোনায় সিনেটর মার্ক কেলি ও রুবেন গ্যালেগোর সঙ্গে কথা বলার সময় একজন ভোটার জ্যাসি কারজিনস্কি বলেন, “কখন তারা (ডেমোক্র্যাট) তাদের দ্বিধা ঝেড়ে ফেলবে এবং কিছু করবে?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের এই বিভেদ ও দুর্বলতা তাদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ।
তাদের দ্রুত ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন