সিনেমা জগতে অপ্রত্যাশিত ঘটনার ঘনঘটা প্রায়ই দেখা যায়, আর “ডীপ ব্লু সি” (Deep Blue Sea) তেমনই একটি ছবি, যা দর্শকদের মনে আজও গেঁথে আছে। এই ছবিতে স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন (Samuel L. Jackson)-এর চরিত্রটি যেভাবে মারা যায়, তা নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন খোদ অভিনেতা।
তাঁর মতে, সিনেমায় তাঁর বহু মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু এই চরিত্রটির মৃত্যু আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে।
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন ছিলেন একজন কর্পোরেট প্রধানের ভূমিকায়। ছবিটিতে হাঙ্গরের আক্রমণে মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
এই ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে অভিনেতা জানান, পরিচালক রেনি হারলিন (Renny Harlin) যখন তাঁকে এই ছবিতে মৃত্যুর দৃশ্যের কথা বলেন, তখন তিনি রাজি হয়ে যান।
তাঁর মতে, এমন ভয়ানক দৃশ্যে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ ছিল।
ছবিটির শুটিংয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জ্যাকসন জানান, জলের মধ্যে একটানা কাজ করাটা বেশ কঠিন ছিল। সেসময় বিশাল সব জলের ঢেউ তৈরি করা হত, যা ছিল বেশ কষ্টকর।
পরিচালক রেনি হারলিন জানান, “ডীপ ব্লু সি”-এর চিত্রনাট্য তাঁর “এলিয়েন” (Alien) এবং “পসাইডন অ্যাডভেঞ্চার” (The Poseidon Adventure)-এর মতো ছবিগুলি থেকে অনুপ্রাণিত ছিল, যেখানে সীমিত স্থানে মানুষের টিকে থাকার লড়াই দেখানো হয়েছে।
মেক্সিকোর একটি স্টুডিওতে ছবিটির শুটিং হয়, যেখানে টাইটানিক (Titanic) সিনেমার জন্য বিশাল জলের ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল। হারলিন জানান, শুরুতে সবাই ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে বাথরুম করার জন্য ট্যাঙ্ক থেকে উঠতেন।
কিন্তু কয়েকদিন পর সেই অনিয়মও বন্ধ হয়ে যায়, কারণ ঠান্ডা পানিতে ওঠা-নামা করাটা ছিল বেশ ঝামেলার। এমনকি, জলের ট্যাঙ্কে সবার অজান্তে প্রস্রাবও হতে শুরু করে।
হারলিন আরও জানান, তিনি চেয়েছিলেন হাঙ্গরগুলোকে পর্দায় ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে। সেই কারণে, বিশেষ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।
ছবিতে হাঙ্গরের আক্রমণের দৃশ্যগুলো দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
আশ্চর্যজনকভাবে, শুরুতে সিনেমার ক্লাইম্যাক্স অন্যরকম ছিল। সেখানে সাফ্রন বারোজ (Saffron Burrows) অভিনীত প্রধান বিজ্ঞানী সুসানকে জীবিত দেখানোর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই ধারণা বদলাতে হয়।
শেষ পর্যন্ত এল এল কুল জে (LL Cool J)-কে জীবিত রেখে দর্শকদের চমক দেওয়া হয়।
“ডীপ ব্লু সি” সিনেমাটি বর্তমানে ৪কে আলট্রা এইচডি এবং ব্লু-রে-তে মুক্তি পেয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান