ভিয়েনায় ফুটবল মাঠের নিচে ১ম শতাব্দীর রোমান যুগের যুদ্ধক্ষেত্রের সন্ধান।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় একটি ফুটবল মাঠ সংস্কারের সময় পাওয়া গেছে এক চাঞ্চল্যকর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার। মাঠের নিচে পাওয়া গেছে এক বিশাল গণকবর, যেখানে সম্ভবত প্রথম শতাব্দীর রোমান সাম্রাজ্যের সৈন্যদের দেহাবশেষ রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, নিহত হওয়া এই যোদ্ধারা কোনো এক ভয়াবহ যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছিলেন। খবরটি জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
গত বছর অক্টোবর মাসে, ভিয়েনার সিমারিং এলাকার ফুটবল মাঠের সংস্কার কাজ চলছিল। মাটি খননের সময় শ্রমিকরা দেখতে পান কঙ্কালসার দেহাবশেষের স্তূপ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি কোনো সাধারণ কবর নয়, বরং একটি গণকবর। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এখানে সমাধিস্থ হওয়া মানুষগুলো সম্ভবত কোনো এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই গণকবরে প্রায় ১৩০ জনের বেশি মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। এদের সবারই বয়স ছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
কঙ্কালগুলোর শরীরে পাওয়া গেছে যুদ্ধের আঘাতের চিহ্ন। কারো মাথায়, কারো বুকে, আবার কারো কোমরে গভীর ক্ষত ছিল।
আঘাতের ধরন দেখে মনে করা হচ্ছে, তারা হয় তরবারি, না হয় বর্শার আঘাতে নিহত হয়েছিলেন।
এই আবিষ্কার মধ্য ইউরোপে বিরল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ, সাধারণত রোমানরা সৈন্যদের মৃত্যুর পর আগুনে পোড়াতেন।
কিন্তু এখানে পাওয়া গেছে সেনাদের মরদেহ, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রমাণ করে। কার্বন-১৪ পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেছে, কঙ্কালগুলো খ্রিস্টীয় ৮০ থেকে ১৩০ সালের মধ্যেকার।
গবেষকরা জানিয়েছেন, গণকবরে কিছু সামরিক সরঞ্জামও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছিল বর্ম, হেলমেটের কিছু অংশ এবং সৈন্যদের জুতোয় ব্যবহৃত পেরেক।
একটি বিশেষ ধরনের ছুরিও পাওয়া গেছে, যা প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ব্যবহৃত হতো।
যদিও এখন পর্যন্ত মাত্র একজন সৈন্যকে রোমান হিসেবে চিহ্নিত করা গেছে, ডিএনএ এবং অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত যোদ্ধাদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, এই যুদ্ধ সম্ভবত সম্রাট ডমিটিয়ানের (৮৬-৯৬ খ্রিস্টাব্দ) সময়কালে ড্যানিউব নদীর কাছাকাছি অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল। এই আবিষ্কার থেকে ভিয়েনা শহরের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান