জার্মানীর ডয়েচে বোর্শ ফটোগ্রাফি ফাউন্ডেশন পুরস্কার: শোক, সংগ্রাম ও শিল্পকলার এক অনন্য চিত্র
সম্প্রতি লন্ডনের ‘দি ফটোগ্রাফার্স গ্যালারি’তে শুরু হয়েছে ডয়েচে বোর্শ ফটোগ্রাফি ফাউন্ডেশন পুরস্কার প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনীতে মনোনীত চারজন শিল্পীর কাজের সমাহার ঘটেছে, যেখানে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে জীবনের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পুরস্কারের অর্থমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি (পরিবর্তনশীল বিনিময় হার অনুসারে)।
এই প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার শিল্পী লিন্ডোকুলে সোবেকওয়া। তাঁর ‘আই ক্যারি হার ফটো উইথ মি’ শীর্ষক প্রকল্পটি বিশেষভাবে দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছে। সোবেকওয়ার শৈশবে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে এই কাজ। তাঁর ১৩ বছর বয়সী বোন জিয়ান্ডা, যিনি এক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিলেন এবং পরবর্তীতে ২২ বছর বয়সে মারা যান। বোনের ছবি তোলার সুযোগ না পাওয়া, তাঁর স্মৃতিচারণাই যেন এই প্রকল্পের মূল বিষয়। সোবেকওয়ার ছবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার টাউনশিপগুলোর ধূসর, বিষণ্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে, যা শিল্পী ও তাঁর পরিবারের গভীর শোকের প্রতিচ্ছবি।
অন্যদিকে, এই প্রদর্শনীতে আমেরিকান ফটোগ্রাফার রহিম ফরচুনের কাজও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর ‘হার্ডট্যাক’ নামক সিরিজে আমেরিকার গ্রামীণ জনজীবনের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ কাউবয় ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, তাঁদের সংস্কৃতি, সংগ্রাম, এবং টিকে থাকার গল্প ফরচুনের ক্যামেরায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর ছবিতে ব্যবহৃত সাদা-কালো টোন দর্শকদের মধ্যে গভীরতা তৈরি করে।
মেক্সিকান শিল্পী ক্রিস্টিনা ডি মিডেল তাঁর কাজে মেক্সিকান অভিবাসীদের জীবনযাত্রা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তবে তাঁর কাজের ভাষাগত দুর্বলতা এবং কিছু প্রতীকী উপস্থাপনা সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি।
এছাড়াও, পেরুভিয়ান-আমেরিকান শিল্পী তারাহ ক্রাজনাকের কাজও এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। তাঁর ফটোগ্রাফিতে একদিকে যেমন রয়েছে শিল্পী এডওয়ার্ড ওয়েস্টনের কাজের প্রতিচ্ছবি, তেমনই রয়েছে নিজস্ব শৈলীর ছোঁয়া। পাথরকে কেন্দ্র করে তাঁর নিরীক্ষামূলক কাজগুলি দর্শকদের মধ্যে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
ডয়েচে বোর্শ ফটোগ্রাফি ফাউন্ডেশন পুরস্কার প্রদর্শনী শিল্পকলার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে। এই প্রদর্শনী শোক, সংগ্রাম, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনের বিচিত্র রূপ ফুটিয়ে তোলে, যা দর্শকদের জন্য এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা। প্রদর্শনীটি আগামী ১৫ই জুন পর্যন্ত চলবে।
তথ্য সূত্র: The Guardian