লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার জেরে বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিমানবন্দরের একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন লাগার ফলে কয়েক দিন বা এমনকি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত এই অচলাবস্থা চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বিশাল ক্ষতির কারণ হবে।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হিথরোর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এবং সেখান থেকে উড্ডয়নের জন্য নির্ধারিত কয়েকশ’ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে অথবা অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হিথরোর এই বিপর্যয়ের কারণে তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ইতিমধ্যেই হিথরোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ফ্লাইটগুলোকে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং শুক্রবার হিথরোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে চাওয়া যাত্রীদের পরবর্তী ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে যেতে নিষেধ করেছে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের সাতটি ফ্লাইট তাদের যাত্রা বাতিল করতে অথবা অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের তিনটি ফ্লাইট হয় ফ্রাঙ্কফুর্ট অথবা প্যারিসে অবতরণ করেছে অথবা সিঙ্গাপুরে ফিরে গেছে।
হংকংয়ের ক্যাথে প্যাসিফিকও লন্ডনগামী তাদের কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইট সিঙ্গাপুর ও পার্থ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে প্যারিসে অবতরণ করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া শুক্রবার হিথরোর সকল ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ভার্জিন আটলান্টিকও তাদের হিথরোর সকল ফ্লাইট শুক্রবার দুপুরের আগ পর্যন্ত বাতিল করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনার ফলে বিমান সংস্থাগুলোর কয়েকশ মিলিয়ন পাউন্ড (ব্রিটিশ মুদ্রা) ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের এই বিশৃঙ্খলা সপ্তাহান্তে আরও বাড়তে পারে।
কারণ, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পুনর্বিন্যাস করতে অনেক সময় লাগবে। শুধু বিমান সংস্থাগুলোই নয়, বিমানবন্দরের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যবসা, যেমন – খুচরা বিক্রেতা, কার্গো সংস্থা, জেট ফুয়েল সরবরাহকারী এবং বিমানবন্দরের উপর নির্ভরশীল স্থানীয় সম্প্রদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২০২৩ সালে হিথরো বিশ্বের চতুর্থ ব্যস্ততম বিমানবন্দর ছিল এবং ওই বছর প্রায় ৮ কোটি ৩৯ লক্ষ যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন।
বিমানবন্দরের এমন অচলাবস্থা বিমানবন্দরের কর্মীদেরও উদ্বেগের কারণ। কারণ, তাদেরও চাকরি হারানোর সম্ভবনা রয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলোকে দ্রুত তাদের কর্মীদের এবং বিমানের পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে।
এই ঘটনার কারণে বাংলাদেশের যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হতে পারে। যারা যুক্তরাজ্য অথবা অন্য কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে হিথ্রো বিমানবন্দর হয়ে ট্রানজিট করার কথা ছিল, তাদের ফ্লাইটও বাতিল অথবা বিলম্বিত হতে পারে।
এছাড়াও, টিকিট ও অন্যান্য খরচও বেড়ে যেতে পারে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন