গাজায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সেখানকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আবারও কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণে গাজায় মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, যার মধ্যে রয়েছে নারী ও শিশুরাও।
অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে, খাবার, জল, চিকিৎসা পরিষেবা এবং চলাফেরার স্বাধীনতা থেকে সেখানকার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।
যুদ্ধ শুরুর আগে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যায়, যার ফলে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ নতুন করে শুরু হয়। এর ফলস্বরূপ, উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা বেড়েছে এবং সেখানকার বাসিন্দারা চরম ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বোমার আঘাতে ঘরবাড়ি হারানো মানুষগুলোর খাদ্য ও আশ্রয় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকাহত।
গাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা চললেও, সেখানকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট কমাতে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিভিন্ন সময়ে নিন্দা জানালেও, গাজাবাসীর জীবনে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
সেখানের মানুষ জানে, এই ধরনের বিবৃতি তাদের দুর্ভোগ কমাতে যথেষ্ট নয়।
গাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছে। তারা প্রতিবাদ, শিল্পকর্ম, সিনেমা এবং সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছে।
তাদের মূল লক্ষ্য ছিল, বিশ্ব যেন তাদের মানুষ হিসেবে দেখে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত, গাজার মানুষেরা যেন শুধু একটি সংখ্যামাত্র।
কোনো পরিবারের উপর বোমা হামলায় যখন সবাই মারা যায়, তখন সংবাদ মাধ্যমে তাদের নাম উল্লেখ করা হয় না। তাদের কথা কেউ জানতে চায় না, যারা ফুটবল খেলতে ভালোবাসত, ভালো ফল করে পরিবারকে গর্বিত করতে চেয়েছিল, অথবা যারা তাদের সন্তানদের শেষ মুহূর্তে বুকে আগলে রেখেছিল।
গাজার শিশুদের এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যেখানে তাদের ক্ষুধা ও বোমার ভয়ে রাতে ঘুম নেই। এই অবস্থায়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তা গভীর উদ্বেগের কারণ।
প্রশ্ন উঠেছে, কেন বিশ্ব ইসরায়েলের ধ্বংসযজ্ঞের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে এত কিছু ত্যাগ করতে রাজি? কেন গাজার শিশুদের মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও সাহসী হতে বলা হয়, যেখানে তথাকথিত ‘মুক্ত বিশ্ব’-এর নেতারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে?
গাজায় বসবাসকারী মানুষগুলো তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের মানবিক মর্যাদা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা