1. [email protected] : adminb :
  2. [email protected] : Babu : Nurul Huda Babu
April 3, 2025 2:08 PM

আতঙ্কের দিন? ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণায় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট হয়েছে : Wednesday, April 2, 2025,

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে পরিবর্তনের আভাস, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে উদ্বেগ।

ওয়াশিংটন, ২ এপ্রিল, ২০২৪: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব শীঘ্রই বিভিন্ন দেশের ওপর ‘পাল্টা’ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা বাণিজ্য নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে পারে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, আগামী ২রা এপ্রিল, ২০২৫ তারিখটিকে ‘মুক্তি দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন খাতকে চাঙ্গা করা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই শুল্ক নীতি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “২রা এপ্রিল, ২০২৫, আধুনিক আমেরিকান ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হবে।”

তবে, অর্থনীতিবিদদের অধিকাংশই মনে করেন, এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপের কারণে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরই মধ্যে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাণিজ্য বিশ্লেষকরা এই শুল্ক আরোপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতির আওতায়, চীন, কানাডা, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের গাড়ি আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এছাড়াও, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম-এর মতো পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি এবং ঔষধ, কাঠ, তামা ও কম্পিউটার চিপসের ওপরও অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই শুল্ক একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত থাকবে এবং অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তা কমানো যেতে পারে। তবে, শুল্ক আরোপের বিস্তারিত নীতি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, আমদানি শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বাড়বে, যা ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। ইয়েল ইউনিভার্সিটির বাজেট ল্যাব-এর হিসাব অনুযায়ী, যদি ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে একজন সাধারণ মার্কিন পরিবারের বছরে অতিরিক্ত ৩,৪০০ থেকে ৪,২০০ ডলার (প্রায় ৩৭৪,০০০ থেকে ৪৬২,০০০ টাকা) খরচ হতে পারে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই পদক্ষেপের ফলে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়বে এবং নতুন কারখানার সৃষ্টি হবে। হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো জানিয়েছেন, এই শুল্কের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় হতে পারে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় কর বৃদ্ধি হতে পারে।

তবে, সরকারের এই আশাবাদ সত্ত্বেও, অনেকেই শুল্ক আরোপের ফলে সৃষ্ট উদ্বেগকে আমলে নিচ্ছেন। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই শুল্কের কারণে মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি-তে ১ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস হতে পারে এবং পোশাক, তেল, গাড়ি, খাদ্যপণ্য, এমনকি বীমার দামও বাড়তে পারে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। কানাডা ইতিমধ্যে কিছু পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বারবন।

এদিকে, বাংলাদেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু কম্পিউটার চিপসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে, তাই ইলেক্ট্রনিক পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এছাড়াও, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি হলে, বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বিশ্ব বাজারের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে হবে।

কানাডার একটি টুল ও ডাই ব্যবসার জেনারেল ম্যানেজার রে স্পার্নেয়ি বলেন, “এই অনিশ্চয়তা আমাদের ব্যবসার পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলেছে। আমরা জানি, শুল্ক আরোপ করা হবে, কিন্তু কত পরিমাণে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

নভেম্বরের পর থেকে অনিশ্চয়তা আমাদের ব্যবসার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তথ্য সূত্র: এসোসিয়েটেড প্রেস

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2019 News 52 Bangla
Theme Customized BY RASHA IT