মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য শুল্কের কারণে পণ্যমূল্য কমাতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসায়ীরা, যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে, ব্যবসায়ীরা পণ্যের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন, যার কিছু প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ব্যবসায়ীরা পণ্যের নকশা পরিবর্তন, প্যাকেজিং-এ কাটছাঁট এবং সরবরাহ ব্যবস্থা পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছেন, যাতে পণ্যের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে না যায়। খবর অনুযায়ী, খেলনা প্রস্তুতকারক থেকে শুরু করে পোশাক প্রস্তুতকারক—সবাই খরচ কমাতে বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন।
আসুন, দেখে নেওয়া যাক, ব্যবসায়ীরা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন:
এই পদক্ষেপগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো শুল্ক বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম বাড়ানো এড়িয়ে যাওয়া। উদাহরণস্বরূপ, লস অ্যাঞ্জেলেস-ভিত্তিক খেলনা প্রস্তুতকারক অ্যাবাকাস ব্র্যান্ডস ইনকর্পোরেটেড তাদের কিছু বিজ্ঞান বিষয়ক খেলনার বইয়ের কাগজের পুরুত্ব সামান্য কমিয়ে প্রায় ১০ ডলার দাম বৃদ্ধি এড়াতে চাইছে। অন্যদিকে, অরোরা ওয়ার্ল্ড ইনকর্পোরেটেড তাদের খেলনার গাড়িতে কম রঙ ব্যবহার করার কথা ভাবছে।
তবে, খরচ কমানোর এই চেষ্টা সবসময় সফল নাও হতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ব্যবসায়ীরা হয়তো পণ্যের আকার ছোট করে বা উপাদান কমিয়ে “শ্রিঙ্কফ্লেশন”-এর আশ্রয় নিতে পারেন, অর্থাৎ দাম একই রেখে পণ্যের পরিমাণ কমানো হতে পারে। এই ধরনের পদক্ষেপের কারণে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক নীতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন আসছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে। কারণ, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়লে, তা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রেও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে সমস্যা হতে পারে। তাই, বিশ্ব অর্থনীতির এই পরিবর্তনের দিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে।
তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস