একটি রহস্যময় জগতে প্রবেশের আহ্বান জানায় কারেন থম্পসন ওয়াকারের নতুন উপন্যাস ‘দ্য স্ট্রেঞ্জ কেস অফ জেন ও’। একজন সাধারণ লাইব্রেরিয়ান, জেন ও, যিনি নিউ ইয়র্কের মনোবিদ হেনরি বার্ডের চেম্বারে যান, সেখানে শুরু হয় এক অসাধারণ গল্প।
প্রথম দেখাতেই জেন চুপচাপ, শান্ত, এবং বাইরের দিক থেকে খুবই সাধারণ একজন নারী। কিন্তু তার ভেতরের জগৎ যেন এক গভীর রহস্যে মোড়া।
জেন যখন তার স্মৃতি হারানোর কথা বলেন, তখন গল্পের মোড় ঘুরে যায়। তিনি জানান, রাস্তায় এমন একজনকে দেখেছেন যিনি আসলে মৃত।
এই ঘটনার পর তার জীবনে নেমে আসে এক গভীর উদ্বেগ। একদিকে যেমন তিনি তার ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত, তেমনই সমাজের চোখে তার এই স্মৃতিভ্রংশতা কীভাবে দেখা হবে, সেই দুশ্চিন্তা তাকে আরও অস্থির করে তোলে।
উপন্যাসটি শুধু একটি স্মৃতি হারানো নারীর গল্প নয়। এখানে উঠে এসেছে মানুষের মনস্তত্ত্ব, বাস্তবতার ভিন্ন সংজ্ঞা, এবং আত্মার গভীর একাকিত্বের চিত্র।
লেখক গল্পের পরতে পরতে রহস্য তৈরি করেছেন, যা পাঠকদের কৌতূহল ধরে রাখে। জেনের ফ্ল্যাশব্যাকগুলি তার অতীতের এক গভীর ক্ষত উন্মোচন করে, যা তাকে আজকের অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে।
মনোবিদ হেনরি বার্ডের জবানিতে ঘটনার ঘনঘটা বর্ণনা করা হয়েছে। জেনের প্রতিটি কথা, তার আচরণ, হেনরিকে এক নতুন ধাঁধার দিকে নিয়ে যায়।
ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে হেনরির ব্যক্তিগত জীবনের কিছু গোপন কথা, যা গল্পের মোড় আরও জটিল করে তোলে। পুলিশের তদন্তে জেনের গল্পের কিছু অংশে অসঙ্গতি ধরা পড়ে, যা গল্পের ক্লাইম্যাক্স তৈরি করে।
এই উপন্যাসে বাস্তবতার সঙ্গে কল্পনার এক মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে, যা পাঠককে ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যায়।
লেখক বাস্তব জীবনের কিছু ঘটনা, যেমন অ্যাবারফানের বিপর্যয় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গল্পের বুনন তৈরি করেছেন। গল্পের গভীরতা বাড়াতে লেখক ব্যবহার করেছেন ‘প্রিমনোশন’ বা পূর্বাভাস-এর ধারণা।
তবে, চরিত্রগুলোর গভীরতা এবং কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয়, যেমন নতুন মায়েদের মানসিক চাপ—এগুলো আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা যেত।
চরিত্রগুলোর দুর্বলতাগুলো তাদের আরও মানবিক করে তুললেও, তাদের সম্পর্কে আরও গভীরে জানার সুযোগ থাকলে গল্পের আবেদন আরও বাড়ত।
সবকিছু মিলিয়ে, ‘দ্য স্ট্রেঞ্জ কেস অফ জেন ও’ একটি অসাধারণ উপন্যাস। এর আকর্ষণীয় প্লট, রহস্যময়তা, এবং অপ্রত্যাশিত মোড়গুলো পাঠককে গল্পের গভীরে টেনে নিয়ে যায়।
কারেন থম্পসন ওয়াকারের এই কাজটি মনোমুগ্ধকর, যা পাঠককে নতুন কিছু ভাবতে এবং আবিষ্কার করতে উৎসাহিত করে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান