শিরোনাম: এমএইচ৩৭০ বিমানের খোঁজ সাময়িকভাবে স্থগিত, শোকাহত পরিবারগুলোর অপেক্ষা দীর্ঘতর
মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের নিখোঁজ বিমান এমএইচ৩৭০-এর অনুসন্ধান কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। দেশটির পরিবহন মন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনুসন্ধান বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বছরের শেষে তা আবার শুরু করা হবে।
২০১৪ সালে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংগামী এই বিমানটি আকাশে উড্ডয়নের কিছু সময় পরেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। বিমানটিতে ২২৭ জন যাত্রী এবং ১২ জন ক্রু ছিলেন।
বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই এর কারণ নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা চলছে। অনেকের মতে, অভিজ্ঞ পাইলট জাহারি আহমেদ শাহের কোনো গাফিলতি ছিল। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিমানের গতিপথ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবর্তন করা হয়েছিল।
২০১৮ সালে প্রকাশিত একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কিছু দুর্বলতা ছিল এবং বিমানের গতিপথ ম্যানুয়ালি পরিবর্তন করা হয়েছিল। তবে, দুর্ঘটনার আসল কারণ আজও অজানা।
বিমানটির সন্ধানে এর আগে ভারত মহাসাগরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত সেই অভিযানে ১,২০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অনুসন্ধান চললেও বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এরপর একটি ব্রিটিশ-মার্কিন সমুদ্র অনুসন্ধান সংস্থা, ওশেন ইনফিনিটি, ২০১৮ সালে পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করে। সম্প্রতি তারা আবার অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছিল, তবে এবারও তাদের অভিযান সফল হয়নি।
মালয়েশিয়া সরকার ‘যদি না পাওয়া যায়, কোনো ফি নয়’ এই শর্তে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। অর্থাৎ, বিমানটি খুঁজে না পাওয়া গেলে, মালয়েশিয়া সরকারকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।
এদিকে, বিমানের যাত্রীদের পরিবারগুলো আজও তাদের স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছে। নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ছিলেন চীনা নাগরিক। এছাড়া মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও ছিলেন।
ঘটনার ১১ বছর পূর্তিতে গত মাসে বেইজিংয়ে চীনা যাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা মালয়েশীয় দূতাবাসের সামনে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা তাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানান।
তাদের একটাই প্রশ্ন, “১১ বছরের এই অপেক্ষা আর কত দিন?”
এই ঘটনার পর থেকে পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অনুরোধ জানাচ্ছে। তবে, বিমানের রহস্যজনক অন্তর্ধানের কারণ এখনো পর্যন্ত অজানা।
অনুসন্ধানের পরবর্তী কার্যক্রম শুরুর ঘোষণার দিকে এখন তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা