অস্ট্রেলিয়ার বিশালতা যেন এক বিস্ময়। একদিকে ঝলমলে শহর, অন্যদিকে রুক্ষ, কঠিন এক জগৎ।
এই দুইয়ের মাঝে সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছে একটি ট্রেন—ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক। সিডনি থেকে পার্থ পর্যন্ত প্রায় ৪,৩৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যেন এক মহাকাব্য।
এটি কেবল একটি ভ্রমণ নয়, বরং প্রকৃতির বিচিত্র রূপ আর মানুষের জীবনযাত্রার এক জীবন্ত চিত্র।
এই যাত্রাপথে প্রথম গন্তব্য ব্রোকেন হিল। খনিজ সমৃদ্ধ এই শহরটি যেন এক অন্য জগৎ।
এখানে ‘প্রিসিলা, কুইন অফ দ্য ডেজার্ট’ সিনেমার স্মৃতি আজও অমলিন। শহরের রাস্তায় রাস্তায় যেন রুপালি অতীতের আনাগোনা।
এখানকার ‘প্যালেস হোটেল’-এর দেওয়ালে আঁকা রঙিন চিত্রগুলি এক সময়ের সাক্ষী। ব্রোকেন হিলের জীবনযাত্রা, এখানকার মানুষের সংস্কৃতি—সবকিছুই যেন এই ট্রেনের যাত্রাপথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
এরপর শুরু হয় আসল যাত্রা—নাল্লারবোর সমভূমি। রুক্ষ, শুষ্ক এই ভূমি যেন দিগন্ত বিস্তৃত।
এখানে গাছপালা নেই বললেই চলে, মাঝে মাঝে কিছু ঝোপঝাড় চোখে পড়ে। ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালে মনে হয়, যেন এক অন্য গ্রহে এসে পড়েছি।
দিনের আলোয় এই রুক্ষতা একরকম, রাতের অন্ধকারে তারাভরা আকাশের নিচে এর রূপ যেন আরও মোহময়। নাল্লারবোর-এর এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া যেন এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
নাল্লারবোর পেরিয়ে ট্রেন যখন কুকের কাছাকাছি আসে, তখন যেন এক ভিন্ন জগৎ চোখে পড়ে।
এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ রেলওয়ে শহরটি এখন প্রায় জনশূন্য। একটা সময় এখানে প্রায় ৩০০ মানুষের বাস ছিল।
রেলকর্মীদের পরিবার, দোকানপাট, স্কুল—সবকিছুই ছিল এখানে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সবকিছু যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।
এখন এখানে টিকে আছে কেবল কয়েকজন রেলকর্মী। জনশূন্য শহরের নীরবতা যেন এক অন্য বার্তা বহন করে।
যাত্রার শেষ গন্তব্য পার্থ শহর। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঝলমলে এই শহর যেন এক স্বপ্নের মতো।
এখানকার আকাশচুম্বী অট্টালিকা, কোলাহলপূর্ণ রাস্তাঘাট—যেন এক ভিন্ন জগৎ। ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক ট্রেন অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব থেকে পশ্চিমে ছুটে চলে, যা দুটি ভিন্ন জগৎকে এক করে তোলে।
এই দীর্ঘ রেলযাত্রা শুধু একটি ভ্রমণ নয়, বরং প্রকৃতির বিচিত্র রূপ আর মানুষের জীবনযাত্রার এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
এই যাত্রাপথে একদিকে যেমন রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া, তেমনি অন্যদিকে রয়েছে প্রকৃতির রুক্ষ রূপ। এই দুইয়ের মাঝে ইন্ডিয়ান প্যাসিফিক যেন এক সেতু, যা মানুষকে এক নতুন অভিজ্ঞতার স্বাদ এনে দেয়।
তথ্য সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক