মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তন আসায় বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের জেরে বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিও যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর ১০ থেকে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এই পদক্ষেপকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি “বড় ধাক্কা” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইইউ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এর ফলে খাদ্য, পরিবহন এবং ওষুধের দাম বাড়বে, যা দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
ইইউ বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে পাল্টা ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের “নিকটতম মিত্র” সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
ব্রিটিশ সরকার শুল্কের প্রভাব কমাতে একটি বাণিজ্য চুক্তি চাইছে, তবে, তারা এটাও স্পষ্ট করেছে যে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত তারা।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের একতরফা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করুক এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুক।
চীনের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এর জবাবে চীনও ব্যবস্থা নেবে।
তারা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের রফতানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারে। এমনকি, তারা মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের নিজস্ব মুদ্রার অবমূল্যায়ন করতে পারে, যাতে নতুন শুল্কের প্রভাব কমানো যায়।
এই পরিস্থিতিতে, বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদরা বিশ্বজুড়ে মন্দা আসার আশঙ্কা করছেন।
তারা বলছেন, রপ্তানি নির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশেষ করে, লাওস, কম্বোডিয়া এবং মিয়ানমারের মতো দরিদ্র দেশগুলোতে শুল্কের প্রভাব হবে ভয়াবহ।
দক্ষিণ কোরিয়াও এই শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
দেশটির সরকার বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে।
তারা মনে করে, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।
ব্রাজিলও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে।
তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-এর কাছে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক নীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।
এর ফলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এর সরাসরি প্রভাব না পড়লেও, বিশ্ব অর্থনীতির এই অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানত তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।
বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য বাধা তৈরি হলে, বাংলাদেশের রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সরকারের উচিত হবে এই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।
রপ্তানি বাজার টিকিয়ে রাখতে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা