আফ্রিকার প্রথম ‘এআই ফ্যাক্টরি’ : প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন দিগন্তের সূচনা
বিশ্বজুড়ে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence – AI) জয়জয়কার, সেই সময়ে আফ্রিকার দেশগুলোতেও এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালি-তে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্লোবাল এআই সামিট অন আফ্রিকা’। এই সম্মেলনের প্রাক্কালে জিম্বাবুয়ের প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার স্ট্রাইভ মাসিইওয়ার মালিকানাধীন ‘ক্যাসাভা টেকনোলজিস’ ঘোষণা করেছে, তারা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এআই চিপ প্রস্তুতকারক ‘এনভিডিয়া’-র সঙ্গে মিলে আফ্রিকার প্রথম ‘এআই ফ্যাক্টরি’ তৈরি করতে যাচ্ছে।
এই ‘এআই ফ্যাক্টরি’ তৈরি হওয়ার ফলে আফ্রিকার দেশগুলোতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে পারে।
মূলত, উন্নত কম্পিউটিং ক্ষমতার অভাবে আফ্রিকা মহাদেশে এআই প্রযুক্তির অগ্রগতি বেশ ধীর ছিল।
‘এনভিডিয়া’-র তৈরি করা অত্যাধুনিক সুপার কম্পিউটারগুলো, যেগুলি গ্রাফিক প্রসেসিং ইউনিট (GPU) ব্যবহার করে, সেগুলি ক্যাসাভার ডেটা সেন্টারে স্থাপন করা হবে।
প্রাথমিকভাবে, এই কার্যক্রমটি আগামী জুন মাস থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় শুরু হবে এবং পরবর্তীতে মিশর, কেনিয়া, মরক্কো ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোতেও এটি সম্প্রসারিত করা হবে।
আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের গবেষক, স্টার্টআপ এবং ব্যবসায়ীরা এই প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন।
এর ফলে তারা স্থানীয় চাহিদা ও সমস্যার সমাধানে এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবে, যা কৃষি, স্বাস্থ্য ও আর্থিক পরিষেবা সহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন ঘটাতে সহায়ক হবে।
বর্তমানে, আফ্রিকার মাত্র ৫ শতাংশ এআই গবেষকের পর্যাপ্ত কম্পিউটিং পাওয়ারে প্রবেশাধিকার আছে।
‘অ্যালায়েন্স ফর এআই’-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স সাদো-এর মতে, জিপিইউ-এর সহজলভ্যতা এই মহাদেশে এআই বিপ্লবকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
এই উদ্যোগের ফলে আফ্রিকার বাজারে এআই বিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে।
এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত প্রযুক্তির সহজলভ্যতা স্থানীয় ডেটা সেন্টার তৈরি করতে সহায়তা করবে।
যার ফলে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ সহজ হবে এবং খরচও কমবে।
উন্নত দেশগুলোতে এআই মডেল তৈরি করতে যে সময় লাগে, আফ্রিকার গবেষকদের সেই একই কাজ করতে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো, কারণ তাদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ছিল না।
এই ফ্যাক্টরি তৈরি হওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।
তবে, এই প্রকল্পে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
আফ্রিকার অনেক দেশে এখনো বিদ্যুতের অভাব রয়েছে, যা এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পের জন্য একটি বড় বাধা।
এছাড়াও, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সীমাবদ্ধতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এই ‘এআই ফ্যাক্টরি’ তৈরির ফলে আফ্রিকার এআই বিষয়ক গবেষণা, উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্থানীয়ভাবে ডেটা তৈরি এবং ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে, যা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।
এর ফলে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবন বাড়বে এবং স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সমাধান তৈরি করা যাবে।
এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দিক।
আফ্রিকার প্রযুক্তিগত উন্নয়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে এবং অন্যান্য দেশগুলোকেও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করবে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন