যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে নতুন মোড়, ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক আরোপ।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে মুক্ত বাণিজ্য এবং বিশ্বায়নের পক্ষে কথা বললেও, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি একগুচ্ছ নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর উপর এর প্রভাব পড়বে।
বুধবার হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে এক ভাষণে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এমন দেশগুলো এবং যারা মার্কিন পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে, তাদের বিরুদ্ধেই মূলত এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মুক্ত বাণিজ্যের ধারণা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
২০২৩ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি তার রপ্তানির চেয়ে ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার বেশি ছিল, যা বাণিজ্য ঘাটতির একটি বড় উদাহরণ।
এই নতুন শুল্কের আওতায় চীন, সিরিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোও রয়েছে।
সিরিয়ার উপর ইসরায়েলের আক্রমণ এবং মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ ও ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ গ্রহণ করে চলা দেশগুলোও এই শুল্কের আওতায় পড়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই পারস্পরিক শুল্ক আগামী ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
তিনি তার ভাষণে উল্লেখ করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র তার বাণিজ্য অংশীদারদের তুলনায় কম শুল্ক আরোপ করেছে।
ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে “লুণ্ঠন” করেছে।
উদাহরণস্বরূপ, তিনি চীনের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে মার্কিন পণ্যের উপর গড়ে ৬৭ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়।
এর বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে।
তবে, চীনের ক্ষেত্রে এই শুল্ক আরও বেশি হবে।
কারণ, ট্রাম্প পূর্বে চীনের পণ্যের উপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
ফলে, সবমিলিয়ে চীনের পণ্যের উপর এখন ৫৪ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চীন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত তালিকায় ৫৭টি দেশ, অঞ্চল এবং জোটের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের উপর এই শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে।
এর বাইরে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্য অংশীদারদের থেকে আসা পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।
যদিও মেক্সিকো এবং কানাডার নাম এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে এই দুটি দেশ এরই মধ্যে উচ্চ শুল্কের শিকার।
গত ১ ফেব্রুয়ারি, ট্রাম্প মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন।
পরে উভয় দেশের সঙ্গে আলোচনার পর এক মাসের জন্য তা স্থগিত করা হয়।
তবে, ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতাভুক্ত পণ্যগুলোকে এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এই চুক্তির বাইরে থাকা মেক্সিকো ও কানাডার পণ্যগুলোর উপর এখনো ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে।
এই নতুন শুল্ক নীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠবে এবং বিশ্বজুড়ে পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর উপরও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে, যা আমদানি-রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে, কিছু পণ্যের উপর এই শুল্ক আরোপ করা হবে না।
এর মধ্যে রয়েছে তামা, ঔষধ, সেমিকন্ডাক্টর, কাঠ, জ্বালানি পণ্য এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা