বিখ্যাত অভিনেত্রী কেট ব্ল্যানচেট, যিনি তাঁর অসাধারণ অভিনয় প্রতিভার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবন, কর্মজীবন, বিবাহ এবং বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে অভিনয় জগৎ, এমনকি বিশ্ব মানবতার প্রতি তাঁর গভীর উদ্বেগের চিত্র।
সাক্ষাৎকারে ব্ল্যানচেট জানান, তিনি তাঁর স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে আর্কটিকে নতুন বছর উদযাপন করেছেন, বরফের মধ্যে গর্ত করে -৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ঝাঁপ দিয়ে। তিনি বলেন, “এটা ছিল অসাধারণ, কারণ সবকিছু যেন কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিল।
অভিনয়ের বাইরেও ব্ল্যানচেটের আগ্রহের শেষ নেই। তিনি জানান, অভিনয়ের সুযোগ না পেলে শব্দ প্রকৌশলী (Foley artist) হতে তাঁর খুব ভালো লাগত। শব্দ প্রকৌশলী হিসেবে সিনেমার জন্য শব্দ তৈরি করা, যেমন তরমুজ ভাঙা বা কাপের শব্দ তৈরি করা ইত্যাদি তাঁর পছন্দের।
কেট ব্ল্যানচেট বর্তমানে তাঁর ৫৪ বছর বয়সেও হলিউডের ছবিতে অভিনয় করা এবং সন্তানদের দেখাশোনার মধ্যে দারুণভাবে ভারসাম্য বজায় রাখছেন। তাঁর বড় ছেলের বয়স ২৩ বছর, আর ২০১৯ সালে দত্তক নেওয়া সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স ৯ বছর। তিনি নিয়মিতভাবে বিশাল বাজেটের সিনেমার পাশাপাশি, “ব্ল্যাক ব্যাগ” (Black Bag)-এর মতো সিনেমায় কাজ করছেন, যেখানে তিনি একজন গোয়েন্দা এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
সাক্ষাৎকারে ব্ল্যানচেট তাঁর আসন্ন সিনেমা “ব্ল্যাক ব্যাগ” নিয়ে কথা বলেছেন, যেখানে তিনি এবং মাইকেল ফাসবেন্ডার বিবাহিত গোয়েন্দা দম্পতির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা এবং গোপনীয়তা কিভাবে ভালোবাসার জন্ম দেয়, সে সম্পর্কে তিনি তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “যেসব কথা বলা হয় না, সেগুলো নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে।
অভিনেত্রী তাঁর দাম্পত্য জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে নাট্যকার অ্যান্ড্রু আপটনের সঙ্গে তাঁর বিবাহিত জীবন চলছে। তাঁদের মধ্যে গভীর আস্থা রয়েছে এবং একে অপরের প্রতি পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (UNHCR) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ব্ল্যানচেট শরণার্থীদের জীবন নিয়ে কাজ করা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুদান প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। এই প্রকল্পের আওতায় শরণার্থীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করার জন্য পাঁচজন চলচ্চিত্র নির্মাতাকে প্রায় ১ কোটি টাকার বেশি অনুদান দেওয়া হবে। শরণার্থীদের মানবিক দিক তুলে ধরার জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উৎসাহিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
#MeToo আন্দোলন প্রসঙ্গে ব্ল্যানচেট বলেন, “আলোচনা সবে শুরু হয়েছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছুকে অস্বীকার করা হলো। আমাদের এখনো সেই একই মৌলিক বিষয়গুলোর জন্য লড়াই করতে হচ্ছে।
ব্ল্যানচেট মনে করেন, বর্তমানে সবকিছু খুব “ভঙ্গুর” অবস্থায় রয়েছে। তাই সবকিছু বলার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হয়। তাঁর মতে, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সাধারণ মন্তব্যও অনেক সময় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
সাক্ষাৎকারে ব্ল্যানচেট তাঁর ব্যক্তিগত জীবন এবং কাজের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, রাতে ভালোভাবে ঘুমানোর জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন এবং প্রতিদিন সকালে ঠান্ডা পানিতে গোসল করেন।
কেট ব্ল্যানচেটের এই সাক্ষাৎকারটি তাঁর জীবন, কর্মজীবন এবং বিশ্ব সম্পর্কে তাঁর গভীর উপলব্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন অভিনেত্রী একইসঙ্গে একজন মা, সমাজকর্মী এবং সচেতন নাগরিক হতে পারেন।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান