**উইল্টশায়ারের ‘আপার লন’: ব্রুটালিজমের পথিকৃৎ দম্পতির স্বপ্নের ঠিকানা**
উইল্টশায়ারে অবস্থিত ‘আপার লন’ নামের একটি বিশেষ আবাস, যা স্থাপত্যের ইতিহাসে এক ভিন্ন স্থান তৈরি করেছে। ১৯৬০ এর দশকে, বিখ্যাত স্থপতি অ্যালিসন এবং পিটার স্মিথসন এই বাড়িটি তৈরি করেন, যা ব্রুটালিজম স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই দম্পতি তাঁদের পরিবারের জন্য এটি তৈরি করেছিলেন এবং তাঁরা ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এখানে বসবাস করেন। বর্তমানে, বাড়িটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
**স্মিথসন দম্পতির স্থাপত্য ভাবনা**
স্মিথসন দম্পতি ব্রুটালিজম স্থাপত্যের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের মতে, স্থাপত্য কোনো নির্দিষ্ট শৈলী অনুসরণ করার চেয়ে একটি দৃষ্টিভঙ্গি। ‘আপার লন’ তাঁদের সেই আদর্শের সবচেয়ে উপযুক্ত উদাহরণ। ক্লায়েন্টদের চাহিদা পূরণ করার পরিবর্তে, এটি ছিল তাঁদের পরীক্ষাগার—যেখানে তাঁরা বৃহত্তর প্রকল্পের জন্য নতুন ধারণা তৈরি করতেন। তাঁদের এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলস্বরূপ লন্ডনের ‘দি ইকোনমিস্ট’ পত্রিকার সদর দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরি হয়েছিল।
**ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নকশার বৈশিষ্ট্য**
বাড়িটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ গল্প। ১৯৪৫ সালে, ১৭ বছর বয়সী অ্যালিসন, উইলিয়াম থমাস বেকফোর্ডের তৈরি করা বিশাল ‘ফনথিল অ্যাবে’র ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করতে গিয়েছিলেন। সেই ধ্বংসাবশেষের অনুপ্রেরণা থেকেই তৈরি হয় ‘আপার লন’। বাড়িটি নকশা করার সময়, স্মিথসন দম্পতি পুরনো ও নতুন উপাদানের মিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন। পুরনো একটি কুটিরের দেয়াল ব্যবহার করা হয়েছিল বাড়ির ভেতরের কাঠামো হিসেবে। কাঁচের দেয়াল ব্যবহার করে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে, যা আধুনিক স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
**প্রকৃতির সঙ্গে একাত্মতা**
‘আপার লন’ শুধু একটি বাড়ি নয়, এটি চারপাশের প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে একাত্ম একটি স্থান। বাড়ির চারপাশে পুরনো পাথরের দেয়াল, বিশাল বিচ গাছ এবং বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর—সবকিছু মিলে এক মনোরম পরিবেশ তৈরি করে। স্মিথসন দম্পতি তাঁদের বাগানে বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়েছিলেন এবং সেগুলোর যত্ন নিতেন।
**একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন**
বাড়িটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকার (বিনিময় হার অনুসারে)। এই মূল্যেও ‘আপার লন’-এর মতো স্থাপত্যশৈলী খুঁজে পাওয়া কঠিন। এটি শুধু একটি বাসস্থান নয়, বরং স্থাপত্য, প্রকৃতি এবং সময়ের এক অনন্য মিশ্রণ।
**বর্তমান প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব**
বর্তমানে, এই ঐতিহাসিক বাড়িটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত। এর স্থাপত্যশৈলী এবং প্রকৃতির সঙ্গে এর সম্পর্ক, স্থাপত্যপ্রেমীদের জন্য আজও আলোচনার বিষয়। এটি প্রমাণ করে, কীভাবে একটি বাড়ি সময়ের সাক্ষী হতে পারে এবং একই সঙ্গে আধুনিক ও প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে পারে। ‘আপার লন’ -এর গল্প, বাংলাদেশের স্থাপত্যচর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনে সহায়ক হতে পারে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান