যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা প্রয়োগের বিরুদ্ধে বাড়ছে সমালোচনার स्वर
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, বিশেষ করে ফেডারেল আদালতগুলোতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা প্রয়োগের ধারা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক বিচারক তাঁর বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে বক্তব্য রাখছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক রীতিনীতিকে দুর্বল করতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ক্ষমতা বিভাজন নীতির কথা বলা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, সরকারের তিনটি অঙ্গ – আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা। ট্রাম্পের সময়ে, অনেক বিচারক মনে করছেন, নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা অতিরিক্তভাবে প্রসারিত হয়েছে, যা এই ভারসাম্যকে নষ্ট করছে।
বিভিন্ন মামলায়, বিচারকরা ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কোনো কোনো বিচারক সরাসরি বলেছেন, একজন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমাহীন হতে পারে না। তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের কথা উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন যে, সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে দেশের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। উদাহরণস্বরূপ, ওয়াশিংটন ডিসির একজন ফেডারেল বিচারক তাঁর এক রায়ে উল্লেখ করেছেন, “একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো রাজা নন।
আবার, অন্য একজন বিচারক সরকারের তহবিল স্থগিত করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, “আমাদের অবশ্যই সংবিধান, আইন ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে সম্মান করতে হবে।
কিছু বিচারক মনে করেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো আইনের শাসনের পরিপন্থী। তাঁরা বলছেন, ট্রাম্পের কাছে আইনের শাসন যেন তাঁর রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের পথে একটি বাধা। এই ধরনের মন্তব্য বিচারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাঁরা মনে করেন, বিচারকদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করা জরুরি। তবে, এই ধরনের সমালোচনার কারণে ট্রাম্পের সমর্থকেরা কোনো কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি, তাঁদের অভিশংসনের দাবিও উঠেছে।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা সরাসরি ট্রাম্পের পদক্ষেপগুলোর ওপর কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। তবে, রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিতো ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারকদের প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে ‘বিচারিক অহমিকা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর তাঁর বিভিন্ন নির্বাহী আদেশ ও নীতির বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, আদালতগুলো ধীরে ধীরে বিষয়গুলো বিবেচনা করছে এবং মামলার বিষয়বস্তুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, তা বলা কঠিন। কারণ, রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস ট্রাম্পের এজেন্ডার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এই ঘটনাগুলো গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন