বিমান ভ্রমণে যারা আরাম এবং ভালো খাবারের স্বাদ একসঙ্গে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য সুখবর! তাইওয়ানের জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট চেইন দিন তাই ফুং (Din Tai Fung) তাদের সিগনেচার খাবার পরিবেশন করতে শুরু করেছে ইভা এয়ার (EVA Air)-এর নির্বাচিত কিছু ফ্লাইটে। বিশেষ করে, বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরা এখন আকাশে উড়তে উড়তে এই বিশেষ খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন।
দিন তাই ফুং-এর সুস্বাদু খাবারগুলির মধ্যে অন্যতম হল জুসি শুয়োর মাংসের ‘সিয়াও লং বাও’ স্যুপ ডাম্পলিং, মশলাদার গরুর মাংসের নুডলস স্যুপ এবং বিশেষ মশলার সঙ্গে চিংড়ি ও শুয়োরের মাংসের ওয়ানটন নুডলস। এছাড়াও সাইড ডিশ হিসেবে থাকছে স্পাইসি বিফ ট্রাইপ বা শাওসিং ওয়াইন-এ ম্যারিনেট করা চিকেন-এর মতো মুখরোচক পদ। মিষ্টিমুখ করতে চাইলে থাকছে বিভিন্ন স্বাদের সুঝো-স্টাইলের মুনকেক অথবা মধু ও সাদা ছত্রাকের মিষ্টি স্যুপ।
ইতিমধ্যে দুই দশক পার করেছে দিন তাই ফুং ও ইভা এয়ারের এই অংশীদারিত্ব। ২০০২ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি প্রথম ইভা এয়ারের ফ্লাইটে পরিবেশন করা হয়েছিল দিন তাই ফুং-এর খাবার। তাইওয়ানের এই বিমান সংস্থাটি তাদের নির্বাচিত কিছু রুটে বিজনেস ক্লাসের যাত্রীদের জন্য এই বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেছে। এই রুটগুলোর মধ্যে তাইপে থেকে সিয়াটল, হিউস্টন, ভ্যাঙ্কুভার, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সান ফ্রান্সিসকোর মতো গন্তব্যের দীর্ঘ-দূরত্বের ফ্লাইটগুলো উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও, তাইপের তাইওয়ান টাউইউয়ান বিমানবন্দর থেকে টোকিও-নারিতা, নিউ চিটোস, কানসাই, ফুকুওকা এবং তাইপের সংশান বিমানবন্দর থেকে টোকিও-হানেদা রুটের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটেও এই খাবার উপভোগ করা যাবে।
দিন তাই ফুং বর্তমানে ১৩টি দেশে ১৬৫টির বেশি শাখা নিয়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালে, যখন ইয়াং বিং-ই এবং তার স্ত্রী পেন-মাই লাই একটি রান্নার তেলের দোকান থেকে ‘সিয়াও লং বাও’ তৈরি ও বিক্রি শুরু করেন। অন্যদিকে, ইভা এয়ার ১৯৮৯ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করে এবং ১৯৯২ সালে তারা প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাস চালু করে বেশ পরিচিতি লাভ করে।
বর্তমানে, যদিও এই পরিষেবা সরাসরি বাংলাদেশের জন্য উপলব্ধ নয়, তবে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলি নিঃসন্দেহে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। ভবিষ্যতে হয়তো বাংলাদেশের বিমান সংস্থাগুলিও তাদের যাত্রীদের জন্য এই ধরনের আকর্ষণীয় পরিষেবা নিয়ে আসবে।
তথ্য সূত্র: ট্রাভেল অ্যান্ড লিজার