জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ সুদানে গৃহযুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগের কারণ।
প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের অনুগত এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচারের অনুসারীদের মধ্যে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদানের মিশন (ইউএনএমআইএসএস)-এর প্রধান, নিকোলাস হেইসোম সোমবার এক বিবৃতিতে জানান, দেশের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, কির ও মাচারের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, যা শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা।
তাদের নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের কথা ভাবতে হবে। হেইসোম আরও জানান, বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য এবং মিথ্যা তথ্যের বিস্তার সেখানে জাতিগত বিভেদকে আরও উস্কে দিচ্ছে, যার ফলস্বরূপ বাড়ছে সহিংসতা।
এর ফলে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
দক্ষিণ সুদান বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ দেশ, যা স্বাধীনতা লাভের অল্প দিনের মধ্যেই এক রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পরেছিল। প্রেসিডেন্ট কির একজন দিনকা সম্প্রদায়ের লোক, আর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাচার নুয়ের সম্প্রদায়ের।
তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
২০১৮ সালে একটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে তাঁরা একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন করেন। কিন্তু বর্তমানে সেই শান্তি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
মার্চ মাসের শুরুতে মাচারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ‘হোয়াইট আর্মি’ নামক একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আপার নাইলের নাসির কাউন্টিতে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
এর প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ সুদানের সরকারি সেনারা রাজধানী জুবায় মাচারের বাসভবন ঘিরে ফেলে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।
একই সময়ে সামরিক বাহিনী আপার নাইলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর বিমান হামলা চালায়। হেইসোম জানান, বেসামরিক লোকজনের ওপর নির্বিচারে চালানো এসব হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে অনেকে গুরুতরভাবে ঝলসে গিয়েছেন।
সহিংসতার কারণে এরই মধ্যে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
নিকোলাস হেইসোম সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ সুদান পুনরায় গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট কির ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাচারের মধ্যে শান্তি চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলা নিয়ে গভীর আস্থাহীনতা রয়েছে।
২০২৩ সালে দেশটিতে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, যা ইতোমধ্যে দুবার স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমানে সেটি ২০২৬ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
হেইসোম আরও যোগ করেন, সেখানকার ভুল তথ্য, মিথ্যা খবর এবং ঘৃণা-বিদ্বেষের বিস্তার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং জাতিগত বিভাজনকে আরও গভীর করছে।
ইউএনএমআইএসএস নতুন করে গৃহযুদ্ধ প্রতিরোধের জন্য কাজ করছে এবং আঞ্চলিক অংশীদার, বিশেষ করে আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা