1. [email protected] : adminb :
  2. [email protected] : Babu : Nurul Huda Babu
April 1, 2025 1:46 AM
সর্বশেষ সংবাদ:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জীবন ঝুঁকির মুখে? ভ্যাকসিন গবেষণা বন্ধে উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা! সংবাদ: দুবাইতে রাব্বি হত্যার দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড! চীন-হংকং কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা: তোলপাড়! ভয়ংকর! ত্রিনিদাদে ভ্রমণ সতর্কতা, পর্যটকদের জন্য জরুরি খবর! স্কুল বাসের ধাক্কায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ‘এপস্টাইনের শিকার’! দৌড়ের জগতে নতুন মোড়: জকি ক্লাবে জিম ম্যুলেন, আলোচনা তুঙ্গে! কৃষি বাঁচাতে বিজ্ঞানীরা, অর্থ নেই! ভয়াবহ পরিস্থিতি! ৯টি হোম রান! ভয়ঙ্কর ব্যাটিংয়ে মাঠ কাঁপাল ইয়্যাঙ্কিজ, নতুন অস্ত্রের চমক! ছোট্ট রাহাফ: ঈদের আলো কেড়ে নেওয়া শোকগাথা নীল জলের দেশে: ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে নৌকাবিহারের অভিজ্ঞতা!

সেন্ট জনস: ৪ দিনে কানাডার এই শহরে ঘুরে আসুন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট হয়েছে : Saturday, March 29, 2025,

কানাডার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সেন্ট জনস-এ ৪ দিন: অনবদ্য অভিজ্ঞতার সম্ভার

কানাডার আটলান্টিক উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত নিউফাউন্ডল্যান্ড ও ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরটি যেন এক রূপকথার জগৎ। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন, এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি – সব কিছুই পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।

যারা সমুদ্র ভালোবাসেন এবং প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চান, তাদের জন্য সেন্ট জনস হতে পারে আদর্শ একটি জায়গা। আসুন, জেনে নিই কিভাবে ৪ দিনের সফরে সেন্ট জনস-এর সেরা দিকগুলো উপভোগ করা যেতে পারে।

প্রথম দিন: শহরের আকর্ষণ ও ঐতিহাসিক ভ্রমণ

সেন্ট জনস-এ পৌঁছানোর পর, শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখা যেতে পারে। এখানকার সিগনাল হিল-এ (Signal Hill) উঠলে আটলান্টিক মহাসাগরের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায়।

এখানে অবস্থিত ক্যাবট টাওয়ারে (Cabot Tower) বসে প্রথম ট্রান্স-আটলান্টিক বেতার বার্তা গ্রহণ করা হয়েছিল। এই স্থানটি সেন্ট জনস-এর ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এরপর, শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত ‘দ্য রুমস’ (The Rooms) জাদুঘরে যাওয়া যেতে পারে। এখানে নিউফাউন্ডল্যান্ড ও ল্যাব্রাডরের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

সন্ধ্যায়, জর্জ স্ট্রিটে (George Street) অবস্থিত পাবগুলোতে (Pub) ঢুঁ মারতে পারেন। এখানে লাইভ সঙ্গীত উপভোগ করা যায় এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়া যায়।

ও’রিলিস আইরিশ নিউফাউন্ডল্যান্ড পাব (O’Reilly’s Irish Newfoundland Pub) অথবা শ্যামরক সিটি-র (Shamrock City) মত পাবগুলোতে পুরনো দিনের সংস্কৃতির ছোঁয়া পাওয়া যায়। যারা একটু ভিন্ন কিছু করতে চান, তারা ক্রিশ্চিয়ান্স পাব-এ (Christian’s Pub) ‘স্ক্রিচ-ইন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।

এখানে ঐতিহ্যবাহী এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় পানীয় পান করে নিউফাউন্ডল্যান্ডের নাগরিক হওয়ার সুযোগ মেলে।

দ্বিতীয় দিন: প্রকৃতির কাছাকাছি ও সমুদ্র ভ্রমণ

সেন্ট জনস থেকে একটু দূরে, কানাডার একেবারে পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত কেপ স্পিয়ার লাইটহাউস ন্যাশনাল হিস্টোরিক সাইটে (Cape Spear Lighthouse National Historic Site) যাওয়া যেতে পারে। এখানকার সমুদ্রের রুক্ষ সৌন্দর্য্য এবং লাইটহাউসের মনোরম দৃশ্য মন জয় করে নেয়।

গ্রীষ্মকালে এখানে আর্কটিক অঞ্চল থেকে ভেসে আসা বিশাল আকারের বরফখণ্ড (Iceberg) দেখা যায়। যারা এই বরফখণ্ডের আরও কাছে যেতে চান, তারা প্রায় পাঁচ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে টুয়ালিংগেট (Twillingate) যেতে পারেন।

এটিকে “বিশ্বের বরফখণ্ডের রাজধানী” হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

দিনের বেলায়, একটি স্পিডবোট (Zodiac boat) নিয়ে সমুদ্র ভ্রমণে যাওয়া যেতে পারে। এই সময় তিমি (whale) এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সেন্ট জনস-এর আশেপাশে এই প্রাণীগুলো প্রচুর পরিমাণে বিচরণ করে, যা পর্যটকদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা। ওশেন কোয়েস্ট অ্যাডভেঞ্চারস-এর (Ocean Quest Adventures) মত ট্যুর অপারেটরদের সাথে যোগাযোগ করে এই ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

বিকালে, পেটি হারবার-ম্যাডক্স কোভে (Petty Harbour-Maddox Cove) অবস্থিত চ্যাফেস ল্যান্ডিং-এ (Chafe’s Landing) বসে একটি দারুণ ডিনার উপভোগ করা যেতে পারে। এখানে স্থানীয় সি-ফুড-এর (sea food) স্বাদ নেওয়া যেতে পারে, যা ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলবে।

তৃতীয় দিন: পাখি দেখা ও উপকূলের পথে হেঁটে বেড়ানো

সেন্ট জনস-এর দক্ষিণে, প্রায় ৩০ মিনিটের পথ পাড়ি দিয়ে অ্যাভালন উপদ্বীপের (Avalon Peninsula) উইটলেস বে-তে (Witless Bay) যাওয়া যেতে পারে। এখানে আটলান্টিক পাফিন পাখির (Atlantic puffin) বৃহত্তম কলোনি অবস্থিত।

এই পাখির দল দেখতে এক অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে। ও’ব্রায়ান’স বোট ট্যুরস-এর (O’Brien’s Boat Tours) মাধ্যমে এখানকার পাখি দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।

যারা হেঁটে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভালোবাসেন, তারা বিচেস পাথ-এ (Beaches Path) হেঁটে যেতে পারেন। উইটলেস বে থেকে শুরু করে মোবাইল পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথটি সমুদ্রের পাশ দিয়ে গিয়েছে।

এই পথে হেঁটে গেলে দ্বীপগুলোর সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। এটি প্রায় ২-৩ ঘণ্টার একটি পথ।

সন্ধ্যায়, সেন্ট জনস-এর রেস্টুরেন্টগুলোতে স্থানীয় সি-ফুডের (sea food) স্বাদ নেওয়া যেতে পারে। পোর্টাজ-এর (Portage) মত রেস্টুরেন্টগুলোতে তাজা খাবার পাওয়া যায়।

যারা স্থানীয় বিয়ার (beer) পছন্দ করেন, তারা ব্যানারম্যান ব্রুইং কোং-এ (Bannerman Brewing Co.) যেতে পারেন।

চতুর্থ দিন: রঙিন বাড়ি ও স্থানীয় শিল্প

সেন্ট জনস শহরের কেন্দ্র থেকে অল্প দূরে অবস্থিত জেলিbean রো (Jellybean Row) এখানকার আধুনিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানকার রঙিন বাড়িগুলো পর্যটকদের খুব প্রিয়।

এরপর, কুইডি ভিডি লেকের (Quidi Vidi Lake) পাশ দিয়ে হেঁটে শিল্পী ও কারুশিল্পীদের গ্রাম কুইডি ভিডিতে (Quidi Vidi) যাওয়া যেতে পারে। এখানে কুইডি ভিডি ভিলেজ আর্টিজান স্টুডিওস-এ (Quidi Vidi Village Artisan Studios) স্থানীয় শিল্পকর্ম উপভোগ করা যেতে পারে।

কুইডি ভিডি ব্রুয়ারি-তে (Quidi Vidi Brewery) বরফের জল দিয়ে তৈরি বিয়ার-এর স্বাদ নেওয়া যেতে পারে।

গ্রীষ্মকালে, কুইডি ভিডিতে অবস্থিত একটি পুরনো কুটিরে (Cottage) তৈরি মলার্ড কটেজ-এ (Mallard Cottage) স্থানীয় খাবার পরিবেশন করা হয়। এখানে সি-ফুডের (sea food) নানা পদ উপভোগ করা যেতে পারে।

সেন্ট জনস-এর এই ৪ দিনের ভ্রমণ পরিকল্পনা আপনাকে এখানকার প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করবে। যারা নতুন কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চান, তাদের জন্য এই শহরটি হতে পারে একটি চমৎকার গন্তব্য।

তথ্য সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2019 News 52 Bangla
Theme Customized BY RASHA IT