যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারাভিযানের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্তের কথা সম্প্রতি জানা গেছে।
আসন্ন একটি বইয়ে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্ক শেষ হওয়ার পর, গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক মিটিংয়ের পরিবর্তে ছবি তোলার জন্য ক্যাম্প ডেভিডে যান বাইডেন।
নতুন প্রকাশিত হতে যাওয়া ‘আনচার্টেড: হাউ ট্রাম্প বিট বাইডেন, হ্যারিস, অ্যান্ড দ্য অডস ইন দ্য ওয়াইল্ডেস্ট ক্যাম্পেইন ইন হিস্টোরি’ নামক বইটিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন লেখক ক্রিস হুইপল।
বইটিতে বাইডেনের সাবেক চিফ অফ স্টাফ, রন ক্লেইনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বিতর্কের পর প্রগ্রেসিভ ককাসের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে একটি জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
এই ককাসের সমর্থন বাইডেনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কিন্তু বাইডেন সেই মিটিংয়ে যোগ না দিয়ে, বিখ্যাত ফ্যাশন ফটোগ্রাফার অ্যানি লেইবোভিজের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ক্যাম্প ডেভিডে যান।
বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্লেইন বাইডেনকে মিটিংয়ে যোগ দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করেছিলেন।
এমনকি তিনি বাইডেনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, প্রগ্রেসিভ ককাসের সমর্থন পাওয়াটা কতটা জরুরি।
কিন্তু বাইডেন তাঁর সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
তিনি জানান, পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য তাঁর আগে থেকেই ক্যাম্প ডেভিডে যাওয়ার কথা ছিল।
বইটিতে আরও জানা যায়, প্রগ্রেসিভ ককাসের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল মিটিংয়ে বাইডেন অংশগ্রহণ করেছিলেন।
সেখানে তিনি ককাসের সদস্যদের ইসরায়েল বিষয়ক অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং তাঁদের চেয়ে নিজেকে বেশি প্রগতিশীল হিসেবে দাবি করেন।
বইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, ক্লেইন বাইডেনের এই সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নেননি।
তিনি মনে করেছিলেন, এটি ছিল একটি মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত।
বাইডেনের উপদেষ্টাদের মধ্যে এই বিষয়ে মতভেদ দেখা যায়।
ক্লেইন মনে করতেন, বাইডেনের দল নির্বাচনে জেতার জন্য সঠিক কৌশল তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বইটিতে আরও বলা হয়েছে, বাইডেনের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাঁর ওপর হতাশ হয়েছিলেন।
তাঁদের মধ্যে অনেকে বাইডেনের পরিবর্তে অন্য কোনো প্রার্থীকে চাচ্ছিলেন।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বাইডেনকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাইডেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করতে হয়।
পরবর্তীতে তিনি ১০০ দিনের একটি প্রচারণা চালান, যেখানে তিনি ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন।
যদিও ক্লেইন বাইডেনের এই কঠিন পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তারপরও তিনি মনে করেন, বাইডেন দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ী হতে পারতেন।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান