গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। পবিত্র রমজান মাসে যখন গাজায় ত্রাণ সামগ্রীর তীব্র সংকট চলছে, ঠিক সেই সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন এক আদেশে গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। খবর অনুযায়ী, গাজার পানি শোধনাগারগুলো এখন বন্ধ হওয়ার হুমকিতে পড়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজায় ইসরায়েলি অবরোধের কারণে সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খাদ্য, পানি এবং বিদ্যুতের অভাবে সেখানকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দোকানপাট ও বেকারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকট আরও বেড়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা শহরের বাসিন্দারা রুটি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছে না। সেখানকার অধিবাসীদের অধিকাংশই বর্তমানে খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, হামাস ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। হামাস চাইছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত শুরু করা হোক। তাদের দাবি, এই ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েল এখনো পর্যন্ত দ্বিতীয় ধাপে যেতে রাজি নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলাডেলফি করিডোর থেকে সেনা সরাতে রাজি না হওয়ায় ইসরায়েল এই দ্বিধা দেখাচ্ছে। ফিলাডেলফি করিডোর হলো গাজা ও মিশরের মাঝে একটি সংকীর্ণ ভূমি dখণ্ড।
হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বানচাল করার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে। হামাস একে ‘সস্তা ব্ল্যাকমেইলিং’, ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং যুদ্ধবিরতির ওপর ‘প্রত্যক্ষ আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ত্রাণ সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মীরাও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা যায়, হামাসের একটি প্রতিনিধি দল কায়রো থেকে দোহায় ফিরে গেছে। সেখানে তারা কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর করা নিয়ে আলোচনা করবে। হামাস এক বিবৃতিতে গাজা পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন কারিগরি কমিটি গঠনে রাজি হয়েছে এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, জানা গেছে, আগামী সোমবার তারা দোহায় প্রতিনিধি পাঠাবে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েলি হামলায় রবিবার ২ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছে। গাজা সিটির শুজাইয়া পাড়ায় চালানো ওই হামলায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা এখনো পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে চলেছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে অন্তত ১১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪৯০ জন আহত হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত অ্যাডাম বোহলার জানিয়েছেন, গাজায় বন্দীদের মুক্তি নিয়ে হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনা ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গাজা ইস্যুতে কিছু একটা হতে পারে’।
বর্তমানে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে দেশটির জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নিহত বন্দীদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রবিবার ইসরায়েলি ট্যাংক ওয়াদি বুরকিন গ্রামের ভেতরে প্রবেশ করেছে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা