ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যের আদালতে ‘স্টিলের ডসিয়ার’ মামলার খরচ বাবদ ৬২ লক্ষ টাকার বেশি পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ করতে হবে) বিচারক রাউলি এই নির্দেশ দেন। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ওঠা কিছু অভিযোগের কারণে হওয়া একটি মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পরেই এই রায় আসে।
মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে। ২০১৬ সালে প্রাক্তন ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার স্টিলের তৈরি করা ‘স্টিলের ডসিয়ার’-এ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়, যা তিনি অস্বীকার করেছিলেন।
অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল, রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি’র দ্বারা ট্রাম্প ‘ compromise’ হয়েছিলেন এবং তিনি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও মস্কোতে যৌন পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন।
২০২২ সালে ট্রাম্প, অরবিস বিজনেস ইন্টেলিজেন্সের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই সংস্থাটি ক্রিস্টোফার স্টিলের তৈরি করা। ট্রাম্পের দাবি ছিল, স্টিলের ডসিয়ারে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা।
তবে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বিচারক স্টেইন এই মামলা খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে ট্রাম্পকে মামলার খরচ হিসেবে অরবিসকে অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। শুরুতে, ট্রাম্পকে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল, যা তিনি দিতে অস্বীকার করেন।
এরপরেই, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে বিচারক রাউলি ট্রাম্পকে ৬ কোটি ২৬ লক্ষ টাকার বেশি পরিশোধ করার নির্দেশ দেন।
বিচারক তাঁর রায়ে জানান, এই অঙ্কটি “যুক্তিযুক্ত এবং সমানুপাতিক”। এছাড়াও, এই অর্থের ওপর প্রতিদিন ১২ শতাংশ হারে সুদ যুক্ত হবে। ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি স্টিলের ডসিয়ারে প্রকাশিত তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, বিতর্কিত ‘স্টিলের ডসিয়ার’-এ এমন সব অভিযোগ ছিল যা ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্স (MI6) এর প্রাক্তন কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার স্টিল এই ডসিয়ার তৈরি করেছিলেন। এতে এমন সব অভিযোগ ছিল যেগুলোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অরবিস জানিয়েছিল, এই ডসিয়ারটি তাদের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছিল।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি ২৬ লক্ষ টাকার বেশি।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান