মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তাদের বাণিজ্য নীতিতে একগুচ্ছ পরিবর্তন এনেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে, এবং এর মধ্যে বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে, সেটিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে তারা তাদের সকল আমদানির উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। তবে এখানেই শেষ নয়, কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই শুল্কের পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে, যা বাণিজ্য যুদ্ধকে আরও উস্কে দিতে পারে।
চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মত বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদারদের উপর এই শুল্কের মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ, চীনের উপর প্রায় ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এই শুল্ক নীতি ‘পাল্টা শুল্ক’ হিসেবে পরিচিত হলেও, বাস্তবে এর হিসাব নিকাশ বেশ জটিল। এটিকে সরাসরি পারস্পরিক শুল্ক বলা যাচ্ছে না।
বরং, এটি একটি বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হচ্ছে। কোনো দেশের বাণিজ্য ঘাটতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের রপ্তানির হিসাব করে এই শুল্কের হার নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাণিজ্য ঘাটতি বেশি থাকলে, সেই দেশের উপর শুল্কের হারও বাড়বে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে অনেক দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যাদের মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনামের মতো দেশ, যেখানে শুল্কের হার হতে পারে ৪৬ থেকে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত। এই দেশগুলো থেকে আমেরিকা প্রচুর পরিমাণে ভোগ্যপণ্য, যন্ত্রপাতি, এবং বস্ত্র আমদানি করে থাকে।
তবে, মেক্সিকো ও কানাডার মতো কিছু দেশকে প্রাথমিকভাবে এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। যদিও তাদের সাথে বিদ্যমান কিছু বাণিজ্য চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে।
এই শুল্ক নীতি শুধু কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতির উপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব কেমন হবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে, এটি নিশ্চিত যে এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিও এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না। যেহেতু বাংলাদেশ বিভিন্ন পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে, তাই শুল্ক বৃদ্ধির কারণে আমাদের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আবার, বিভিন্ন দেশের সাথে আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কও এই সিদ্ধান্তের দ্বারা প্রভাবিত হবে।
এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আমাদের নীতিনির্ধারকদের এখনই এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভবিষ্যতের জন্য কৌশল তৈরি করতে হবে।
বিশ্ব অর্থনীতির এই নতুন পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে, আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কগুলোকে নতুনভাবে সাজাতে হবে এবং রপ্তানি বাজারকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে হবে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন