আকাশে বিরল দৃশ্য, আসছে ‘রক্তিম চাঁদ’
আসন্ন ১৩ ও ১৪ই মার্চ, ২০২৫ তারিখে দেখা যেতে পারে এক দারুণ মহাজাগতিক ঘটনা – একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। নাসা’র তথ্য অনুসারে, এই গ্রহণ ‘রক্তিম চাঁদ’ নামে পরিচিত, যা উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার আকাশে দৃশ্যমান হবে। এছাড়াও, পশ্চিম ইউরোপ, আফ্রিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কিছু অংশে এই গ্রহণ দেখা যেতে পারে।
এই চন্দ্রগ্রহণ আসলে কী? যখন পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্যের মাঝে চলে আসে, তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে এবং সূর্যের আলো বাধা পায়। এই কারণে চাঁদের আলো কমে যায়, এবং ধীরে ধীরে তা লালচে বর্ণ ধারণ করে। এই লাল আভা সৃষ্টির কারণ হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় সূর্যের আলোকরশ্মি বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়। নীল ও সবুজ আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ার কারণে তা সহজে ছড়িয়ে পরে, কিন্তু লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় তা চাঁদের উপরিভাগে পৌঁছাতে পারে, ফলে চাঁদকে লাল দেখায়। অনেকটা বিকেলের সূর্যের মতো, যা দিগন্তে লাল দেখায়।
এই গ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদের রঙ কেমন হবে, তা নির্ভর করে বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতির ওপর। বায়ুমণ্ডল পরিষ্কার থাকলে উজ্জ্বল তামাটে রঙের চাঁদ দেখা যাবে, আবার বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা বেশি থাকলে চাঁদ আরও গাঢ় লাল দেখাবে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই গ্রহণের সময় বায়ুমণ্ডল তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার থাকতে পারে, ফলে উজ্জ্বল কমলা-লাল রঙের চাঁদ দেখা যেতে পারে।
বাংলাদেশে কি দেখা যাবে এই গ্রহণ? দুঃখের বিষয় হলো, এই চন্দ্রগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে যারা উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, পশ্চিম ইউরোপ, আফ্রিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থান করছেন, তারা এই বিরল দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সময়কাল প্রায় ৬৬ মিনিট স্থায়ী হবে। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী, গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় বা ‘পূর্ণ গ্রহণ’-এর সময় হবে মার্চ মাসের ১৪ তারিখ, সকাল ৬টা ২৬ মিনিটে (ইউটিসি)। এই সময় চাঁদের গভীর লাল আভা দেখা যাবে। আপনারা যারা এই সময়ে বাইরে থাকবেন, তারা খালি চোখেই এই দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। তবে, ভালো ছবি তোলার জন্য একটি ট্রাইপডের ওপর স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও, বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদের পৃষ্ঠের আরও বিস্তারিত দৃশ্য দেখা সম্ভব।
যদি এই গ্রহণ দেখতে না পান, তাহলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ, এর কয়েক মাস পরেই আবার একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি হবে ২০২৫ সালের ৭ ও ৮ই সেপ্টেম্বর। তবে, এই গ্রহণটি আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে দেখা যাবে।
চন্দ্রগ্রহণ একটি অসাধারণ মহাজাগতিক ঘটনা, যা আমাদের মহাকাশের সৌন্দর্য ও রহস্যের সঙ্গে পরিচিত করে তোলে। যারা বিজ্ঞান ও মহাকাশ ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্য সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক