ডমিনিকান রিপাবলিকে ঘুরতে যাওয়া এক মার্কিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
২০ বছর বয়সী সুদীক্ষা কোনাঙ্কি নামের ওই তরুণী ইউনিভার্সিটি অফ পিটসবার্গের ছাত্রী।
গত ৬ই মার্চ পুন্তা কানার একটি রিসোর্ট থেকে তিনি নিঁখোজ হন।
এরপর থেকেই ডমিনিকান রিপাবলিক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে তাঁর অনুসন্ধানে নেমেছে।
সুদীক্ষার পরিবারের আদি নিবাস ভারতে হওয়ায়, সেখানকার সরকারের পক্ষ থেকেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
খোঁজখবর অনুযায়ী, সুদীক্ষা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো পাঁচজন সহপাঠীর সঙ্গে ৩রা মার্চ ডমিনিকান রিপাবলিকে ভ্রমণে যান।
ঘটনার দিন, অর্থাৎ ৬ই মার্চ, ভোর ৪টার দিকে একটি নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সুদীক্ষা আরো কয়েকজনের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ করছেন।
এই দলে ছিলেন আরো পাঁচজন নারী এবং দুইজন পুরুষ।
এর আগে, ওই দিন ভোরে তাঁরা হোটেলের লবিতে বসে কিছু পান করেছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে ভোর ৫টার দিকে যখন ক্যামেরা ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়, তখন দেখা যায় পাঁচজন নারী ও একজন পুরুষ সৈকত ত্যাগ করছেন, কিন্তু সুদীক্ষাকে সেখানে দেখা যায়নি।
তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্র জানাচ্ছে, সুদীক্ষার সঙ্গে থাকা এক পুরুষের বয়সের অনুমান করা হচ্ছে ২০ বছর।
ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে ওই ব্যক্তিকেও সৈকত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা যায়।
বর্তমানে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, যদিও এখনো পর্যন্ত তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
ওই ব্যক্তি পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁরা দুজনেই সমুদ্রে নেমেছিলেন, কিন্তু তাঁর শারীরিক অসুস্থতা বোধ হওয়ায় তিনি উঠে আসেন এবং একটি বিশ্রাম চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়েন।
এরপর তিনি সুদীক্ষার আর কোনো খোঁজ পাননি।
ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে সুদীক্ষার সঙ্গীরা তাঁকে খুঁজে না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
ডমিনিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট লুইস আবিনাদের এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তাঁরা এই ঘটনাকে একটি “দুর্ঘটনা” হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত করছেন এবং সাগরে বিশেষ অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, ডমিনিকান রিপাবলিক বছরে ১ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি পর্যটকদের স্বাগত জানায় এবং পর্যটকদের জন্য দেশটি নিরাপদ একটি স্থান।
সুদীক্ষার বাবা, সুব্বারায়ুডু কোনাঙ্কি, তাঁর মেয়ের দ্রুত সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এই ঘটনার সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন, এমনকি অপহরণ বা মানব পাচারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করতে বলেছেন।
নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধানে ডমিনিকান কর্তৃপক্ষ ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে।
হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়াও, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন।
জানা গেছে, সুদীক্ষার পরনের পোশাক সৈকতের একটি চেয়ারে পাওয়া গেছে।
তবে সেখানে কোনো সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
সুদীক্ষার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে পুন্তা কানায় অবস্থান করছেন এবং তাঁরা চান দ্রুত এই ঘটনার একটা সুরাহা হোক।
তথ্য সূত্র: সিএনএন