আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে প্রেসিডেন্ট জ্যাভিয়ার মলেইয়ের বিতর্কিত অর্থনৈতিক নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে।
বিশেষভাবে পেনশন কমানো এবং খেলাধুলা বিষয়ক কিছু সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে সাধারণ মানুষ।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত এবং শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (গতকাল) এই বিক্ষোভে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক এবং বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের সমর্থকরা একত্রিত হয়।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন, যিনি গুলির শিকার হয়েছেন।
এছাড়া, টিয়ার গ্যাসের শেল লেগে এক বিক্ষোভকারীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
প্রেসিডেন্ট মলেইয়ের নতুন অর্থনৈতিক নীতির কারণে দেশটির অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকরা তাদের পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচের নীতি গ্রহণ করেছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পেনশন খাতে।
খবর অনুযায়ী, পেনশন কমানোর প্রতিবাদে নিয়মিতভাবে আন্দোলনে নামছেন অবসরপ্রাপ্তরা।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, সরকার তাদের চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে এবং পেনশনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।
বিক্ষোভের সময় অনেককে আর্জেন্টিনার পতাকা হাতে দেখা যায়, এছাড়াও প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার ছবিও বহন করেন তারা।
ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়, যখন সরকার এক নির্দেশনায় জানায়, যারা খেলা চলাকালীন সময়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
এর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা “মলেই, তুমি একটা আবর্জনা, স্বৈরাচার” স্লোগান দেয় এবং ১৯৭৬-৮৩ সালের সামরিক শাসনের সঙ্গে তার শাসনের তুলনা করে।
বিক্ষোভের সময় কংগ্রেস ভবনের কাছে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ব্যারিকেড তৈরি করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ছিলেন ফটো সাংবাদিক পাবলো গ্রিলো।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ছবি তোলার সময় তিনি একটি আঘাত পান।
তাঁর বাবার অভিযোগ, মলেই সরকারের নীতির কারণেই এমনটা হয়েছে এবং তাঁর ছেলের জীবন এখন সংকটাপন্ন।
এছাড়াও, সম্প্রতি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর চিকিৎসা কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
২০২০ সালে ম্যারাডোনার মৃত্যুর পর তাঁর চিকিৎসা কর্মীদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই ঘটনার জের ধরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আর্জেন্টিনার বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পেনশনভোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তাদের পেনশনের পরিমাণ বাড়ছে না।
দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক প্রতি মাসে সর্বনিম্ন প্রায় ৩৮ হাজার টাকার (বাংলাদেশি মুদ্রায়) মতো পেনশন পান।
গত বছর প্রেসিডেন্ট মলেই একটি আইন বাতিল করেন, যেখানে পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল, যদিও তা মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় যথেষ্ট ছিল না।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা