যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (Department of Homeland Security – DHS) জর্জেটাউন ইউনিভার্সিটির এক ভারতীয় গবেষককে আটক করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে বুধবার (গতকাল) এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির মধ্যে এই ঘটনা ঘটল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট গ্রোভস এক চিঠিতে বোর্ডের সদস্যদের জানান, বাদার খান সুরি নামের ওই গবেষক ইরাক ও আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠাবিষয়ক গবেষণা করছিলেন এবং ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন।
ডিএইচএস তাঁর ভিসা বাতিল করেছে এবং তাকে আটক করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ‘আমরা তাঁর কোনো অবৈধ কাজের খবর জানি না এবং আটকের কারণও জানানো হয়নি।’
অন্যদিকে, ডিএইচএস মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সুরি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামাসের পক্ষে প্রচারণা চালাতেন এবং ইহুদিবিদ্বেষ ছড়াতেন।
এছাড়া তাঁর সঙ্গে এক ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর’ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, যিনি হামাসের একজন উপদেষ্টা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, সুরির কার্যকলাপ ও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির জন্য গুরুতর ক্ষতিকর হতে পারে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে deport বা ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সুরির আইনজীবী হাসান আহমেদ জানান, তাঁর মক্কেল বর্তমানে লুইজিয়ানায় অভিবাসন আদালতের শুনানির অপেক্ষায় আছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের এমন কর্মকাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয়।
একজন খ্যাতিমান গবেষক, যিনি সংঘাত নিরসনে কাজ করেন, তাঁকে যদি পররাষ্ট্রনীতির জন্য ক্ষতিকর মনে করা হয়, তাহলে সমস্যাটা সম্ভবত সরকারেরই।’
জর্জেটাউন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে সুরির প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি আলওয়ালিদ বিন তালাল সেন্টার ফর মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এর ফেলো ছিলেন এবং বসন্তে দক্ষিণ এশিয়ায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে একটি কোর্স পরিচালনা করতেন।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের দমননীতি চলছে।
এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন