উত্তর কোরিয়া নতুন বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে, এমনটাই জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। একই সময়ে, রাশিয়ার নিরাপত্তা প্রধান সের্গেই শোইগু উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গে রাশিয়া সফরের একটি যোগসূত্র থাকতে পারে। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)-র বরাত দিয়ে জানা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি প্রমাণ করেছে যে নতুন অস্ত্রগুলো অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং এতে দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
পরীক্ষার বিস্তারিত স্থান উল্লেখ করা না হলেও, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সদস্যরাও এই সময় কিম জং উনের সঙ্গে ছিলেন। কিম জং উন বলেছেন, এই পরীক্ষার ফলে দেশটির সেনাবাহিনী “যুদ্ধ সক্ষমতা সম্পন্ন আরও একটি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা” অর্জন করবে।
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কয়েক দিন আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শেষ করেছে। উত্তর কোরিয়া এই মহড়াকে “আগ্রাসনের যুদ্ধ মহড়ার রিহার্সাল” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া সম্ভবত উত্তর কোরিয়াকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে দেশ দুটির মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করার উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে থাকতে পারে। এর আগে, রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেনকোও পিয়ংইয়ং সফর করেন এবং উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুইর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এছাড়া, গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য উত্তর কোরিয়া থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়েছে। বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সৈন্য সরবরাহ করেছে।
ধারণা করা হয়, ১০ হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হয়ে লড়ছে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা