লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বন্ধ ঘোষণা করা হলো বিমানবন্দর।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সিএনএন সহ বিভিন্ন সূত্রে খবর, লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে আগুন লাগার কারণে বড় ধরনের বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এর ফলস্বরূপ, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরটি শুক্রবার (২১শে মার্চ) দিনের জন্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে.
বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে, তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চয়তা নেই।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, আবার কিছু ফ্লাইটকে অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে.
এতে করে বহু যাত্রী তাদের গন্তব্যে যেতে পারেননি, বিশেষ করে যারা দূরপাল্লার ফ্লাইটে ছিলেন, তাদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। হিথরোর এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
জানা গেছে, বিমানবন্দরের কাছে একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে আগুন লাগে। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং প্রায় ১৫০ জন মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে আশপাশের ১৬,০০০ এর বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
হিথরো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার কথা মাথায় রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তারা আরো বলেছেন, যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে বিমানবন্দরের পুনরায় চালু হওয়ার ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
হিথরো বিমানবন্দর শুধু যুক্তরাজ্যের নয়, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে একটি। ২০২৩ সালে এখানে রেকর্ড সংখ্যক ৮ কোটি ৩৯ লক্ষ যাত্রী ভ্রমণ করেছেন।
প্রতিদিন প্রায় ১,৩০০ ফ্লাইট এই বিমানবন্দর দিয়ে চলাচল করে, যা দৈনিক প্রায় আড়াই লাখ যাত্রীর আনাগোনা নিশ্চিত করে। এই মুহূর্তে বিমানবন্দরের এই অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর এক বিরাট ধাক্কা দিয়েছে।
এই ঘটনার কারণে অনেক যাত্রী তাদের জরুরি কাজ অথবা ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ প্রিয়জনের বিয়েতে যোগ দিতে পারেননি, আবার কেউ অসুস্থ স্বজনের কাছে পৌঁছাতে পারেননি.
এমন পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করে যাচ্ছে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন