ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছে, যার মাধ্যমে তারা ন্যাটোর (NATO) নিরাপত্তা জোটে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানা গেছে।
এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)-কে সামরিক দিক থেকে আরও শক্তিশালী করা।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং নর্ডিক দেশগুলোসহ ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো এই বিষয়ে আলোচনা করছে। ‘ফিনান্সিয়াল টাইমস’ পত্রিকার বরাত দিয়ে জানা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার বিস্তারিত খসড়া তৈরি করছেন।
মূলত, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ন্যাটোর প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ার আশঙ্কাই এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার যে হুমকি ছিল, সেটি এখনো ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগের কারণ।
বর্তমানে, ন্যাটোর বার্ষিক ব্যয়ের ১৫.৮ শতাংশ দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র, যা প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের সমান। এছাড়াও, ইউরোপে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।
ফলে, ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করছে, নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলো চায় আগামী জুনে নেদারল্যান্ডসের হেগে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে।
এই পরিকল্পনার আওতায়, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আগামী পাঁচ থেকে দশ বছর ধরে ব্যয় বৃদ্ধি করতে হবে। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো কারণে ন্যাটোর দায়িত্ব থেকে সরেও যায়, তাহলেও ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে এখন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, লজিস্টিকস, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্থল যুদ্ধের মতো বিষয়গুলোতে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।
ব্লুমবার্গ নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটো এরই মধ্যে ইউরোপ ও কানাডাকে তাদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত ৩০ শতাংশ বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কমার প্রেক্ষাপটে ইউরোপের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এর প্রভাব কেমন হবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা