যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের মধ্যে যাদের ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাদের দ্রুত এল সালভাদরে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে গভীর অনিশ্চয়তা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে বিতর্কিত ‘এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট’ ব্যবহারের মাধ্যমে এই কাজ করা হচ্ছে, যেখানে পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের ব্যাপারে কোনো খবর পাচ্ছে না।
তাদের দাবি, গ্যাংয়ের সাথে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের স্বজনদের নির্বাসিত করা হয়েছে। গত কয়েকদিনে, অনেক ভেনেজুয়েলীয় অভিবাসীর পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান করছে।
তাদের অভিযোগ, মার্কিন কর্তৃপক্ষ কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাদের আটককৃত স্বজনদের এল সালভাদরে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এমনই একজন হলেন ইয়ারলিয়ানা আন্দ্রেইনা চাকিন গোমেজ।
তিনি তার ভাই জন উইলিয়াম চাকিন গোমেজের জন্য এখনো পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সঠিক তথ্য পাননি। সিএনএন-এর প্রতিবেদক প্রিসিলা আলভারেজের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার ভাইকে এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, তার ভাই কোনো অপরাধী নন। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদিও বলা হচ্ছে, ফেরত পাঠানো অভিবাসীরা ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ গ্যাংয়ের সদস্য, তবে তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি।
‘ইমিগ্রেন্ট ডিফেন্ডার্স ল’ সেন্টারের’ প্রেসিডেন্ট লিন্ডসে টোজিউলোওস্কি জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে অভিবাসন আদালতে কাজ করছেন, কিন্তু এমন ঘটনা আগে দেখেননি। তার মতে, এই ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক।
আটকের পর অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসন বিতর্কিত ‘এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট’ ব্যবহার করছে। এই আইনটি মূলত যুদ্ধকালীন সময়ে বিদেশি শত্রুদের দ্রুত বিতাড়িত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
এই আইনের অধীনে আটক ও বিতাড়িত ব্যক্তিদের অভিবাসন আদালতে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার কোনো সুযোগ থাকে না। বর্তমানে এল সালভাদরে ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কারণ, তারা এখন আর মার্কিন কর্তৃপক্ষের অধীনে নেই, আবার তাদের নিজ দেশেও ফেরত পাঠানো হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে।
বুকেলে জানিয়েছেন, গ্যাংয়ের সাথে জড়িত সন্দেহে ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের এক বছর ‘সন্ত্রাস দমন কেন্দ্রে’ রাখা হবে। এটি আমেরিকার বৃহত্তম কারাগার, যেখানে খারাপ পরিবেশের জন্য কুখ্যাতি রয়েছে।
আরেকজন ভেনেজুয়েলীয় নাগরিক হলেন আর্তুরো সুয়ারেজ ট্রেজো। তিনি ‘সুয়ারেজভজলা’ নামে পরিচিত একজন উঠতি গায়ক।
তার ভাই নেলসন সুয়ারেজ জানান, আর্তুরো যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে চিলিতে তার শিল্পীজীবন শুরু করেছিলেন এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এমনকি তার কোনো অপরাধের রেকর্ডও নেই।
নেলসন আরও জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে একটি মিউজিক ভিডিওর শুটিংয়ের সময়, মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আর্তুরো ও তার ম্যানেজারকে আটক করে। আর্তুরোর পরিবারের অভিযোগ, তাদের কাছে কোনো তথ্য না দিয়েই তাকে এল সালভাদরে পাঠানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা এল সালভাদরের কারাগারে বন্দী অভিবাসীদের ছবি দেখে আর্তুরোকে সনাক্ত করেছেন। ছবিতে তার শরীরে থাকা ট্যাটু দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, তিনি তাদের পরিবারের সদস্য।
আরেকজন ভেনেজুয়েলীয় নাগরিক হলেন ফ্রান্সিসকো গার্সিয়া ক্যাসিক। তার মা মিরেলিস ক্যাসিক সিএনএন এস্পানোলের সাথে কথা বলার সময় জানান, তিনিও বন্দী অভিবাসীদের ছবিতে তার ছেলেকে শনাক্ত করেছেন।
তিনি জানান, তার ছেলের শরীরে বিশেষ কিছু ট্যাটু রয়েছে, যা দেখে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে, ছবিতে থাকা ব্যক্তিটি তার ছেলে। অন্যদিকে, মারভিন জোসে ইয়ামার্তে ফার্নান্দেজ নামে আরেকজনের স্ত্রী জিয়ানেলিস পাররা মোরিলো সিএনএন এস্পানোলের কাছে অভিযোগ করেন, তার স্বামীও কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
তিনি জানান, তার স্বামীর শরীরে ট্যাটু রয়েছে, তবে তার কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানান, অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তাদের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের বিষয়ে তাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ ছিল।
তথ্য সূত্র: সিএনএন