সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে, আর এর সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে অল্প বয়সেই মুখের সৌন্দর্য বাড়াতে অস্ত্রোপচারের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। পশ্চিমা বিশ্বে, বিশেষ করে যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব বেশি, সেখানে এই প্রবণতা বাড়ছে।
সম্প্রতি, কসমেটিক সার্জারি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিতে এই নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সাধারণত, ফেসলিফ্ট বা মুখমণ্ডলের ত্বক টানানোর মতো অস্ত্রোপচারকে বয়স্ক মানুষের সৌন্দর্যচর্চার একটি অংশ হিসেবেই দেখা হতো। কিন্তু এখনকার চিত্রটা ভিন্ন। অল্পবয়সী নারী-পুরুষ, এমনকি কুড়ি-তিরিশের কোঠার মানুষেরাও এই অস্ত্রোপচারের দিকে ঝুঁকছেন।
তাঁদের মূল লক্ষ্য হল, বয়সের ছাপ লুকানো নয়, বরং মুখের কিছু বৈশিষ্ট্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। চোয়ালের রেখা স্পষ্ট করা, গালের গড়ন উন্নত করা অথবা চোখের চারপাশের ত্বককে টানটান করার মতো বিষয়গুলিতে তাঁরা বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বাড়বাড়ন্তের কারণেই এই প্রবণতা বাড়ছে। বর্তমানে, তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের ছবি বা ভিডিও আপলোড করাটা স্বাভাবিক একটা বিষয়।
ফলে, তাঁরা তাঁদের চেহারা নিয়ে আরও বেশি সচেতন হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে, সমাজের চোখে সুন্দর হওয়ার একটা চাপ তৈরি হয়, যা তাঁদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব তৈরি করে। এর ফলস্বরূপ, তাঁরা দ্রুত ফলাফল পাওয়ার জন্য অস্ত্রোপচারের দিকে ঝুঁকছেন।
তবে, এই ধরনের অস্ত্রোপচারের কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। অস্ত্রোপচার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প বয়সে এই ধরনের অস্ত্রোপচার করালে ভবিষ্যতে আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
তাছাড়া, অস্ত্রোপচারের ফলে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা মাংসপেশির দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। কসমেটিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. জোনাথন জেলকেন-এর মতে, “এই ধরনের অস্ত্রোপচার যেন অনেকটা সোশ্যাল মিডিয়ার ফিল্টারের মতো, যা বাস্তবে নিজেদের আরও আকর্ষণীয় করে তোলার একটা চেষ্টা।”
এই প্রসঙ্গে, কসমেটিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. কেলি কিলিনের সতর্কবার্তা হল, “অল্পবয়সীরা হয়তো এমন কিছু পেতে চান, যা তাঁদের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।” তিনি আরও বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার ছবিতে মুখের খুঁতগুলো সাধারণত দেখা যায় না, তাই অনেক সময় তাঁরা একটা ভুল ধারণার শিকার হন।”
বিভিন্ন দেশের পরিসংখ্যানও এই প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই অস্ত্রোপচার করানো রোগীর সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৭ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে।
তবে, অস্ত্রোপচার করানোর আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে, অন্য দেশে অস্ত্রোপচার করাতে গেলে সেখানকার সার্জনের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া দরকার।
কারণ, কম খরচে অস্ত্রোপচার করার প্রলোভন অনেক সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর জটিলতা দেখা দিলে তা সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
সবশেষে বলা যায়, সৌন্দর্যচর্চা মানুষের ব্যক্তিগত একটি বিষয়। তবে, অল্প বয়সে অস্ত্রোপচারের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এর ভালো-মন্দ দিকগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করা উচিত।
তথ্য সূত্র: সিএনএন