যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে এমন একটি খবর সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে। জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য একটি মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেছিলেন। আর এই চ্যাট গ্রুপে ভুল করে যুক্ত হয়েছিলেন একজন সাংবাদিক।
মার্কিন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মাইক ওয়ালজ-এর উদ্যোগে সিগন্যাল নামের একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপে ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার একটি গ্রুপ তৈরি করা হয়। মূলত, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ওপর সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য এই গ্রুপটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু এক অসাবধানতাবশত ‘দ্য আটলান্টিক’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক জেফরি গোল্ডবার্গকে সেই গ্রুপে যুক্ত করা হয়।
আলোচনার এক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে হামলার সময় নিয়ে কথা হয় এবং গোল্ডবার্গ সেই আলোচনা অনুসরণ করেন। এরপর হামলা সম্পন্ন হওয়ার পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তাঁরা তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন। গোল্ডবার্গ গ্রুপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আশ্চর্য লাগছে।” অপর একজন কর্মকর্তা এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বাইডেন আমলে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সরাসরি ‘না’ সূচক জবাব দেন।
গোপনীয়তা রক্ষার জন্য সিগন্যাল অ্যাপ বিশ্বজুড়ে পরিচিত। সাংবাদিক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এই অ্যাপটির ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। সরকারি কর্মকর্তাদের মিটিংয়ের সময়সূচি তৈরি করা বা বিদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো কাজেও এটি ব্যবহার করা হয়। তবে সামরিক অভিযানের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার করা হলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কারণ, সামরিক অপারেশনের পরিকল্পনা অত্যন্ত গোপন রাখা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। কারণ, এর মাধ্যমে জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি এর ফলস্বরূপ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও আনা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কোনো তথ্য বেহাত হওয়ার অভিযোগ পেলে তদন্ত শুরু করে। এক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে অভিযোগ আসার কথা। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের পদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এমন তদন্তের সম্ভাবনা কম।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এই কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন অনেকে। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএ পরিচালক লিওন প্যানেটা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “একজন সাংবাদিকের নাম কীভাবে এই তালিকায় এলো, তা খুবই উদ্বেগের বিষয়। যদি গোল্ডবার্গের বদলে অন্য কেউ থাকতেন, তাহলে হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে হুতি বিদ্রোহীদের কাছে এই খবর পৌঁছে যেত, ফলে তারা লোহিত সাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় হামলা চালাতে পারত, যার ফলে সেনা সদস্য হতাহত হওয়ারও সম্ভাবনা থাকত।”
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প জানান, তিনি কিছুই জানেন না। তিনি আরও বলেন, “আমি আটলান্টিক ম্যাগাজিনের খুব একটা ভক্ত নই। আমার মনে হয়, তারা ব্যবসা গুটিয়ে ফেলবে। তবে আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।”
উল্লেখ্য, হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করায় যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন