মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদের বিতাড়ন সংক্রান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালতে শুনানি চলছে। ১৯ শতকের একটি পুরোনো আইন, ‘এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে অভিবাসীদের বিতাড়নের চেষ্টার বিরুদ্ধে এই আইনি লড়াই।
অভিযোগ উঠেছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই আইনের অপব্যবহার করে মূলত যাদের ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের দ্রুত বিতাড়নের চেষ্টা করছে। বিতাড়িতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন ভেনেজুয়েলার নাগরিক। তাদের মধ্যে ২০০ জনের বেশি মানুষকে বিতাড়ন করে এল সালভাদরে পাঠানো হয়।
সেখানে তাদের বন্দী করে রাখা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অনেকের মাথার চুল কামিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিতাড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ নামক একটি গ্যাং-এর সদস্য।
আদালতে শুনানিতে বিচারকদের মধ্যে মতভেদ দেখা গেছে। বিচারক প্যাট্রিসিয়া মিলেট এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট’-এর অধীনে নাৎসিদেরও এর চেয়ে ভালো ব্যবহার করা হয়েছিল।
আদালতকে দেওয়া এক যুক্তিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবী ড্রিউ এনসাইন বিচারকের এই যুক্তির বিরোধিতা করেন।
আদালতে বিতাড়িত হওয়া এক ব্যক্তির আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেলকে একটি গ্যাং-এর সদস্য হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ, তার শরীরে একটি বিশেষ ট্যাটু ছিল, যা আসলে রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল দলের প্রতি তার ভালোবাসার প্রতীক।
তিনি একসময় পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন এবং শিশুদের কোচিং করাতেন।
আদালতে বিতাড়ন নীতির বিরোধিতা করে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU)। তারা জানায়, বিতাড়নের আগে অভিযুক্তদের নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসন বিতাড়নের প্রক্রিয়াটি গোপন রাখার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই বিতাড়ন প্রক্রিয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্রায় ৬০ লক্ষ ডলার খরচ করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৩ কোটি টাকার সমান।
বিচারক জেমস বোয়াসবার্গ ১৫ই মার্চ এক আদেশে ‘এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট’-এর অধীনে সব ধরনের বিতাড়ন বন্ধ এবং বিতাড়ন হওয়া ফ্লাইটগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প এবং তার মিত্ররা বোয়াসবার্গের এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আপিল আদালতে এই মামলার শুনানি এখনো চলছে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা