মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি আন্তোнин স্কালিয়ার আদর্শ এখনো বহাল, এমনটাই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। রক্ষণশীল বিচারক হিসেবে পরিচিত স্কালিয়ার প্রাক্তণ সহকর্মীরা, যারা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, তাদের মাধ্যমেই যেন এই প্রভাব আরও বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে।
তারা আদালতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও ভূমিকা রাখছেন।
১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্কালিয়ার মৃত্যুর পর, তার আদর্শের অনুসারীরা বিভিন্নভাবে আইনের জগতে প্রভাব বিস্তার করছেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বর্তমান বিচারক অ্যামি কোনি ব্যারেট। ২০২০ সালে তার নিয়োগের পর থেকে তিনি আদালতের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
বিচারপতি স্কালিয়ার মূলনীতি ছিল ‘আসলবাদ’ এবং ‘আক্ষরিকতাবাদ’-এর উপর ভিত্তি করে সংবিধানের ব্যাখ্যা করা। এর মাধ্যমে তিনি সংবিধানের মূল লেখকদের অভিপ্রায়কে গুরুত্ব দিতেন।
তার এই পদ্ধতির অনুসারীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাদের মতামত দিচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, গর্ভপাতের অধিকার বাতিল, বন্দুকের অধিকার বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গদের সুবিধা কমানোর মতো বিষয়গুলোতে তাদের প্রভাব বিশেষভাবে দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্কালিয়ার এই প্রভাব কেবল তার রায়গুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রাক্তন সহকর্মীরা হয় আইনজীবী হিসেবে অথবা বিচারক হিসেবে, তাদের কর্মের মাধ্যমে এই ধারাকে আরও শক্তিশালী করছেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ডি. জন সাওয়ার, যিনি বর্তমানে সরকারের শীর্ষ আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে কাজ করছেন। এছাড়াও, পল ক্লিমেন্ট এবং জোনাথন মিচেলের মতো আইনজীবীরাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জড়িত।
আদালতের এই পরিবর্তনের ফলে, আগামী কয়েক দশক ধরে বিচার বিভাগের উপর রক্ষণশীলদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্কালিয়ার অনুসারীরা হয়তো সরাসরি তার মতো করে কথা বলেন না, তবে তাদের কাজের মাধ্যমে তারা বিচার বিভাগের রক্ষণশীল ধারাকে শক্তিশালী করছেন।
স্কালিয়ার সময়ে, আদালত গর্ভপাত এবং সমকামীদের অধিকারের মতো বিষয়ে রক্ষণশীল অবস্থান বজায় রেখেছিল।
এই আদর্শকে অনুসরণ করে, তার প্রাক্তণ সহকর্মীরাও তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই কার্যক্রম বিচার বিভাগের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে এবং সম্ভবত ভবিষ্যতে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে সহায়ক হবে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন