বার্লিন ও মেলবোর্নের মঞ্চ কাঁপানো এক নাম, বার্নি ডিয়েটার। এই নামে পরিচিত হলেও, পর্দার আড়ালে তিনি জেন বার্ন। জার্মান বংশোদ্ভূত এই নারীর জীবন এবং তাঁর সৃষ্টিশীলতার গল্প শুনলে বিস্মিত হতে হয়।
সম্প্রতি জানা গেছে, বার্নি ডিয়েটারের চরিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর পরিবারের এক গভীর ইতিহাস।
জেন বার্নের জন্ম ও বেড়ে ওঠা জার্মানিতে। তাঁর শৈশব এবং কৈশোরের স্মৃতি জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন সংস্কৃতি আর অভিজ্ঞতার মিশ্রণ।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম বার্নি ডিয়েটারের, যিনি একাধারে শিল্পী এবং বিপ্লবী। উইমার ক্যাবারে ঘরানার একজন শিল্পী হিসেবে বার্নি ডিয়েটার সারা বিশ্বে পরিচিত।
জার্মানির এই বিশেষ ধরনের পরিবেশনা ছিল সমাজের প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক শক্তিশালী মাধ্যম। বার্নি ডিয়েটারের পরিবেশনাতেও সেই বিদ্রোহের সুর পাওয়া যায়, যা দর্শককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
বার্নি ডিয়েটারের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর পরিবারের এক সংগ্রামের ইতিহাস। জানা যায়, তাঁর ঠাকুরমা, যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক যাযাবর সার্কাসে কাজ করতেন।
যুদ্ধের বিভীষিকা ও কঠিন পরিস্থিতিতেও তাঁরা টিকে ছিলেন। বার্নের ঠাকুরদার পরিবার ১৯৩০-এর দশকে জার্মানির ড্রেসডেন শহরে বসবাস করতেন।
সার্কাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁদের জীবন ছিল খুবই অনিশ্চিত। যুদ্ধের সময় পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যে সীমান্ত তৈরি হওয়ায় তাঁদের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল।
জেন বার্নের ঠাকুরদা ছিলেন কঠোর প্রকৃতির মানুষ। তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সার্কাসে কাজ করতে দিতে রাজি ছিলেন না।
ঠাকুরমাকে একসময় দেশ ত্যাগ করতে হয়েছিল। তাঁদের সেই কঠিন জীবন বার্নি ডিয়েটারের শিল্পীসত্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
বার্নি ডিয়েটারের পরিবেশনা শুধু বিনোদনমূলক নয়, বরং এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতিচ্ছবি। তাঁর পারফর্মেন্সগুলোতে যৌনতা ও লিঙ্গ পরিচয়ের মতো বিষয়গুলো নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
হাঙ্গেরি এবং জাপানের মতো রক্ষণশীল দেশগুলোতেও তাঁর অনুষ্ঠানগুলো বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অনেক দর্শক বার্নি ডিয়েটারের পরিবেশনা দেখে নিজেদের জীবনের নতুন দিক খুঁজে পেয়েছেন।
জেন বার্ন তাঁর চরিত্র বার্নি ডিয়েটারের মাধ্যমে সমাজের প্রচলিত ধারণাগুলোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তিনি মনে করেন, উইমার ক্যাবারে হলো সমাজের অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরার একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
বার্নি ডিয়েটারের নতুন শো ‘ক্লাব কাবার্যাট’ বর্তমানে মেলবোর্নে চলছে, যা আগামী ১১ই মে পর্যন্ত প্রদর্শিত হবে। পরবর্তীতে ১লা আগস্ট থেকে ২৩শে আগস্ট পর্যন্ত এই শো এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত হবে।
বার্নি ডিয়েটারের জীবন ও কর্ম আমাদের দেখায়, কীভাবে শিল্প একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, যা মানুষকে একত্রিত করে এবং সমাজের প্রচলিত ধ্যান-ধারণাকে প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করে।
তথ্য সূত্র: The Guardian