গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন, পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী।
আর্টিক অঞ্চলের (Arctic region) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। এখানে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড সফরে গিয়ে তিনি এই আশ্বাস দেন।
গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে নতুন সরকার গঠন করতে যাওয়া গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডেনমার্ক এখনো গ্রিনল্যান্ডের সবচেয়ে কাছের সহযোগী।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভেন্সের গ্রিনল্যান্ড সফর নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা চলছে। জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্বীপটির নিরাপত্তা নিয়ে ডেনমার্কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এর পরেই ফ্রেডেরিকসেন গ্রিনল্যান্ডে যান এবং জানান, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের পাশে আছে। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীরই থাকবে।
গ্রিনল্যান্ড খনিজ সম্পদে ভরপুর একটি দ্বীপ, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এই দ্বীপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উত্তর আমেরিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার সংক্ষিপ্ততম পথটি গ্রিনল্যান্ডের ওপর দিয়ে গেছে।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে অতীতে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে, ঔপনিবেশিক শাসনামলে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের প্রতি হওয়া খারাপ আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডে আগ্রহ, ডেনমার্ককে দ্বীপটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উৎসাহিত করেছে।
ফ্রেডেরিকসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডের মানুষের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে। তিনি আরও জানান, ডেনমার্ক চায় গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডেনমার্ক মূলত গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। ডেনমার্ক চাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে যে গ্রিনল্যান্ড তাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু ও সহযোগী।
গ্রিনল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার। সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চায়। তবে তারা দ্রুত স্বাধীনতা অর্জনের বিপক্ষে। কারণ, তাদের আশঙ্কা, এতে দ্বীপটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের কাছে নতি স্বীকার করতে হতে পারে।
ইয়েন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা