নওেল ক্লার্কের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন অসদাচরণের অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাজ্যের একটি আদালতে চলমান মানহানির মামলায় সাক্ষ্য দিলেন দ্য গার্ডিয়ানের তদন্তকারী সাংবাদিক লুসি ওসবর্ন। আদালতের শুনানিতে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, ক্লার্কের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে তাদের কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছিল না।
ব্রিটিশ অভিনেতা এবং প্রযোজক নওেল ক্লার্কের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে এই মানহানির মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ওসবর্ন জানান, তদন্তের সময় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করেছেন। কোনো অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে, তিনি তা গার্ডিয়ানের তদন্ত বিভাগের প্রধান পল লুইসের কাছে উত্থাপন করতেন। কিন্তু এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
আদালতে ক্লার্কের আইনজীবী ফিলিপ উইলিয়ামস, অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে “গুরুতর অসংগতি” রয়েছে এবং ক্লার্ককে হেয় করার উদ্দেশ্যে একটি ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে দাবি করেন। জবাবে ওসবর্ন জানান, তিনি সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করেছেন এবং কারো প্রতি কোনো পক্ষপাত ছিল না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগকারী নারী কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
এই মামলায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হলেন, ক্লার্কের সঙ্গে ‘আনস্টপেবল প্রোডাকশনস’-এ কাজ করা গিনা পাওয়েল। উইলিয়ামস অভিযোগ করেন, পাওয়েল নাকি ক্লার্কের সঙ্গে “যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য” করতেন এবং তাকে পর্নোগ্রাফি পাঠিয়েছিলেন।
ওসবর্ন এর জবাবে জানান, পাওয়েল নিজেই তাকে বলেছিলেন যে, নওেলের কর্মপরিবেশ ছিল “যৌনতাপূর্ণ” এবং সেখানে কর্মীদের একই ধরনের আচরণ করার জন্য চাপ দেওয়া হতো। ওসবর্ন, পাওয়েলকে একজন “অসাধারণ শক্তিশালী ও অনুপ্রেরণাদায়ী নারী” হিসেবে বর্ণনা করেন।
আরেকজন সাক্ষী, ইভলিন (প্রকৃত নাম গোপন রাখা হয়েছে) -এর বিষয়েও উইলিয়ামস প্রশ্ন তোলেন। ইভলিনের অভিযোগ ছিল, ক্লার্ক একটি পার্টিতে তার পোশাকের ছবি তুলেছিলেন এবং তা সহকর্মীদের দেখাতে চেয়েছিলেন।
উইলিয়ামস জানান, ঘটনার সময় ইভলিন সম্ভবত একটি মিনিস্কার্ট পরে ছিলেন। ওসবর্ন এর জবাবে বলেন, ইভলিন মিনিস্কার্ট পরেছিলেন কিনা, তা এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়। মূল অভিযোগ হলো, ক্লার্ক তার আন্ডারওয়্যারের ছবি তুলেছিলেন।
শুনানিতে, ইভলিন মদ্যপ ছিলেন কিনা, এমন প্রশ্ন করা হলে ওসবর্ন জানান, এটিও তার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান