মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনার জেরে সেখানকার বিমান চলাচল ব্যবস্থায় কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জনবল নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে (DCA) কর্মরত কর্মীদের জন্য একটি ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট টিম’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর অনুযায়ী, কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি নজরে রাখতে এবং তাঁদের মধ্যে কাজের চাপ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানুয়ারী মাসের ২৯ তারিখে এখানে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল। একটি মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি আঞ্চলিক জেট বিমানের মধ্যে আকাশে সংঘর্ষ হয়, যাতে ৬৭ জন নিহত হয়েছিলেন। এরপর বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে কর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে, যার ফলস্বরূপ এক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়াও, সম্প্রতি একটি ডেল্টা এয়ারলাইন্সের বিমান এবং এয়ার ফোর্স জেটগুলির মধ্যে অল্পের জন্য একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর টেড ক্রুজ এক শুনানিতে বলেন, “বিমানবন্দরের কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগের কারণ। এই ধরনের ভুলগুলি ইঙ্গিত করে যে বিমান চলাচল সংস্থা চরম চাপের মধ্যে রয়েছে।”
FAA জানিয়েছে, তারা বিমানবন্দরের কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও চালাবে। বর্তমানে, বিমানবন্দরের কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, যেখানে আগে ৬ জন সুপারভাইজার ছিলেন, এখন সেখানে ৮ জন কাজ করছেন।
এছাড়া, FAA বিমানবন্দরের কর্মীদের কাজ পর্যালোচনা করছে। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (National Transportation Safety Board) জানিয়েছে, জানুয়ারীর দুর্ঘটনার সময় একজন কন্ট্রোলার একসঙ্গে দুটি পদের দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা কিছু পরিস্থিতিতে অনুমোদিত, কিন্তু সেই সময় তিনি পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে এই কাজ করেছেন।
FAA-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের সব বিমানবন্দর এবং টার্মিনালগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ কর্মী ছিল না। প্রায় ৭০ শতাংশ পদে লোকবল নিয়োগ করা সম্ভব হয়েছিল।
এছাড়া, দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরের ঘন্টায় বিমান অবতরণের সংখ্যা কমিয়ে ২৬ করা হয়েছিল, যা পরে বাড়িয়ে ৩০ করা হয়। তবে, দুর্ঘটনার আগে এই সংখ্যা ছিল ৩২।
বিমান চলাচলের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ধরনের ঘটনাগুলি বিমানযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে, তাই কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তথ্য সূত্র: সিএনএন