ভারতের পার্লামেন্টে মুসলিম ওয়াকফ সম্পত্তি বিষয়ক একটি বিতর্কিত বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বিলে ওয়াকফ বোর্ডগুলোতে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের জমির মালিকানা যাচাইয়ে সরকারের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী সরকার এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করে বৈচিত্র্য আনয়নের কথা বলছে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এর ফলে ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘুদের অধিকার আরও খর্ব হবে এবং ঐতিহাসিক মসজিদসহ অন্যান্য সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই বিলটি মূলত, মুসলিমদের ধর্মীয় ও দাতব্য কাজে ব্যবহারের জন্য উৎসর্গীকৃত জমি, অর্থাৎ ওয়াকফ সম্পত্তি দেখাশোনার সঙ্গে জড়িত। ভারতে ওয়াকফের অধীনে থাকা সম্পত্তির পরিমাণ বিশাল।
জানা যায়, এখানে প্রায় ৮ লক্ষ ৭২ হাজার ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ ৫ হাজার হেক্টর। এর বাজারমূল্য ১৪.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।
এই সম্পত্তিগুলোর মধ্যে মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান এবং এতিমখানা উল্লেখযোগ্য।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই পরিবর্তনের ফলে ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আসবে এবং এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে। কিন্তু বিরোধী দল ও মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতারা মনে করেন, এটি একটি বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ এবং এর মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের অধিকার দুর্বল করা হবে।
তাদের মতে, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
বিলটি নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, এই বিলের মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডের স্বাধীনতা খর্ব করা হবে এবং তাদের সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ক্ষমতা বাড়বে।
এমনকি অনেক ঐতিহাসিক মসজিদের জমির মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে পুরনো দলিল না থাকায় এসব সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৪ শতাংশ হলেও, তারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন মনে করে, নতুন আইন তাদের অধিকারকে আরও সংকুচিত করবে।
এছাড়াও, সংখ্যালঘুদের ওপর বিভিন্ন সময়ে হামলার ঘটনাও ঘটছে, যা তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের এই পদক্ষেপ গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (United States Commission on International Religious Freedom) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি ক্রমাগত খারাপ হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ওয়াকফ আইন সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ছে।
তথ্য সূত্র: এসোসিয়েটেড প্রেস