গাজায় সামরিক অভিযান আরও বড় করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বুধবার জানিয়েছেন, গাজার বড় এলাকা দখল করে ইসরায়েলের ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ তৈরি করা হবে।
একই সঙ্গে, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে গাজার বাসিন্দাদের ব্যাপক হারে সরিয়ে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান জোরদার করার পরিকল্পনার মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। গ্যালান্টের বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি, তবে জানানো হয়েছে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে এবং তাদের অবকাঠামো ধ্বংস করতে অভিযান চালানো হবে।
এর মাধ্যমে ইসরায়েলের নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির জন্য গাজার বড় এলাকাগুলো দখল করা হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার রাতে, ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র আরবি ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ এলাকার বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে উত্তরে চলে যেতে নির্দেশ দেন।
গত মাসের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল গাজায় বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে, বুধবারের ঘোষণায় নতুন করে সেনা মোতায়েন করা হবে কিনা, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে, গাজায় বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল এবং ইউরোপীয় হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত রাতে চালানো হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ ১৩ জন রাফাহ এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে একটি আবাসিক ভবনে আশ্রয় নিয়েছিল। এছাড়া, মধ্য গাজায় পৃথক হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজায় অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। এর ফলে হামাসের সঙ্গে দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে।
একই সময়ে, অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, এখনো জীবিত থাকা ২৪ জন জিম্মিকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তারা গাজার কিছু অংশে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখবে।
জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, গাজায় খাদ্য সরবরাহ ফুরিয়ে আসছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ সেখানকার পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে।
ইসরায়েলের নতুন চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামিরের নেতৃত্বে দেশটির সামরিক বাহিনী গাজায় বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা অঞ্চলটি দখল করে নিলে সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে।
তবে, গাজায় দীর্ঘমেয়াদী অভিযান চালালে ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কারণ, অনেক ইসরায়েলি নাগরিক জিম্মিদের মুক্তির জন্য আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে আসার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে, জিম্মিদের পরিবারগুলোর ফোরাম বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর খবরে তারা ‘হতবাক’। ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকার একই স্থানে আরও সেনা পাঠাচ্ছে, যেখানে আগে বহুবার যুদ্ধ হয়েছে।
ফোরামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং চিফ অব স্টাফের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তারা যেন এই অভিযানের মাধ্যমে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা জনসম্মুখে এবং বিশেষ করে জিম্মিদের পরিবারের কাছে ব্যাখ্যা করেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনরায় চালুর জন্য মিশর ও কাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হামাস সম্প্রতি মিশরের দেওয়া একটি প্রস্তাবের সঙ্গে সম্মত হয়েছে।
ইসরায়েলও সোমবার একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে।
সিএনএন সূত্রে জানা যায়, মিশরের প্রস্তাবে হামাস পাঁচজন জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছে, যাদের মধ্যে আমেরিকান-ইসরায়েলি নাগরিক এডান আলেকজান্ডারও রয়েছেন।
এর বিনিময়ে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন