মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সতর্কবার্তা দিতে ভারত মহাসাগরের একটি দ্বীপে তাদের অত্যাধুনিক বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান পাঠিয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এটি ওয়াশিংটন কর্তৃক সামরিক শক্তি প্রদর্শনের একটি বড় পদক্ষেপ।
খবর অনুযায়ী, অন্তত ছয়টি বি-২ বোমারু বিমান, যা মার্কিন বিমান বাহিনীর স্টিলথ বোমারু বহরের প্রায় ৩০ শতাংশ, ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে মোতায়েন করা হয়েছে। এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একটি যৌথ সামরিক ঘাঁটি। ইরানের উপকূল থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩,৯০০ কিলোমিটার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ ইরানের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। একই সময়ে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট চিত্রগ্রহণকারী সংস্থা প্ল্যানেট ল্যাবসের তোলা ছবিতে দ্বীপের রানওয়েতে ওই ছয়টি মার্কিন বোমারু বিমান দেখা গেছে। সেখানে বিমানগুলো রাখার জন্য তৈরি করা শেডও দেখা গেছে, যেখানে আরও বিমান লুকানো থাকতে পারে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সরাসরি বি-২ বিমানের কথা উল্লেখ না করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত বিমান এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে, যা আমেরিকার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে। তিনি আরও বলেন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়াতে চাওয়া যেকোনো রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
সিএনএন-এর সামরিক বিশ্লেষক সেড্রিক লেইটনের মতে, অত্যাধুনিক ও প্রায় ২০০ কোটি ডলার মূল্যের এই যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা প্রতিপক্ষকে একটি বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। লেইটন বলেন, “বি-২ মোতায়েন সম্ভবত ইরানের প্রতি কয়েকটি বার্তা দিচ্ছে।”
এর মধ্যে একটি হতে পারে, ইয়েমেনে হুতিদের সমর্থন বন্ধ করার জন্য সতর্ক করা। ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত ইরানের সঙ্গে নতুন একটি পরমাণু চুক্তি করতে চাইছে, যা থেকে তিনি আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে এনেছিলেন। আর ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে রাজি না হয়, তাহলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির ধ্বংসের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ১৯শে মার্চ ইরানের সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে একটি চুক্তিতে আসার জন্য বলেছিলেন, অন্যথায় ফল ভোগ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে ইরান সরাসরি কোনো আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
সামরিক বিশ্লেষক পিটার লেটন বলেন, ছয়টি বোমারু বিমানের এই মোতায়েন সম্ভবত হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে করা হয়নি। তার মতে, “গভীরভাবে সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুর জন্য হয়তো দুটি বা তিনটি বিমানের প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু ছয়টি বি-২ বিমানের মোতায়েন একটি বড় পদক্ষেপ।”
লেইটন আরও বলেছেন, বি-২ বিমানগুলি প্রায় ৩০,০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা বহন করতে পারে, যা “গভীরভাবে সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তু” ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক ও অস্ত্র সংরক্ষণাগারগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যান বিমানবাহী রণতরীটি এই মাসের শেষ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে, যদিও মার্চ মাসের শেষে এর মোতায়েন শেষ হওয়ার কথা ছিল। এছাড়াও, ইউএসএস কার্ল ভিনসন বিমানবাহী রণতরী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মহড়া শেষে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা করবে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন