বৈদেশিক বাণিজ্য এবং শুল্ক: একটি সরল আলোচনা
বৈশ্বিক অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। বিভিন্ন দেশ নিজেদের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা বিনিময় করে থাকে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। এই বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘শুল্ক’ বা ‘ট্যারিফ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, শুল্ক হলো একটি দেশের সরকার কর্তৃক আমদানি করা পণ্যের উপর ধার্য করা কর। সম্প্রতি, এই শুল্কের ধারণাটি আবারও আলোচনায় এসেছে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির কারণে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ককে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শুল্কের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব। বাণিজ্য ঘাটতি হলো একটি দেশের আমদানি যদি রপ্তানির চেয়ে বেশি হয়।
ট্রাম্প প্রায়শই অভিযোগ করতেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদাররা ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য চর্চা করে, যা মার্কিন অর্থনীতির দুর্বলতার কারণ। তাই, শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তিনি তাঁর বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করতে চেয়েছিলেন।
শুল্ক কিভাবে কাজ করে? যখন কোনো দেশ অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে, তখন সেই পণ্যের উপর শুল্ক ধার্য করা হয়। এই শুল্ক সাধারণত পণ্যের মূল্যের শতকরা হিসাবে নির্ধারণ করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো পণ্যের মূল্য ১০০ টাকা হয় এবং তার উপর ১০% শুল্ক ধার্য করা হয়, তবে আমদানিকারককে অতিরিক্ত ১০ টাকা শুল্ক দিতে হবে। এই শুল্কের কারণে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বেড়ে যায়, যা স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য একটি সুরক্ষা তৈরি করে।
কারণ, তখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বাড়ে, যেহেতু সেগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
শুল্কের প্রভাব: শুল্ক আরোপের ফলে কিছু নেতিবাচক প্রভাবও দেখা যায়। প্রধানত, এটি ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়াও, শুল্কের কারণে অন্য দেশগুলো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারে, যা বাণিজ্য যুদ্ধ সৃষ্টি করতে পারে। বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি: যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম পণ্য আমদানিকারক দেশ। তাদের বাণিজ্য ঘাটতিও অনেক বেশি। এর মানে হলো, তারা অন্যান্য দেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করে, সেই তুলনায় তাদের রপ্তানির পরিমাণ কম।
এই ঘাটতি কমাতে ট্রাম্প শুল্কের আশ্রয় নিয়েছিলেন, বিশেষ করে চীনের মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে।
অন্যান্য দেশের উপর প্রভাব: শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো এবং চীনের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির উপর এর প্রভাব বেশ ব্যাপক হতে পারে, যা বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
শুল্ক এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদিও এই নিবন্ধটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি নিয়ে আলোচনা করছে, তবে এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী অনুভূত হয়।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোও শুল্ক এবং বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, উন্নত দেশগুলোতে শুল্ক বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
তাই, বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি সম্পর্কে অবগত থাকা আমাদের জন্য জরুরি।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান